
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার আমডাঙ্গা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ছাড়াই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা কয়েক ডজন রোগীকে সীমিত সেবা নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আমডাঙ্গা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে ৫৫ থেকে ৬০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন মেডিক্যাল অফিসার (এমবিবিএস), একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো), একজন নার্স, একজন ফার্মাসিস্ট এবং একজন অফিস সহায়ক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন কেবল একজন ফার্মাসিস্ট।
দায়িত্বরত ফার্মাসিস্ট মহসিন আলী জানান, “এখানে কোনো দিনই চিকিৎসক ছিলেন না। একজন নার্স মাঝে মধ্যে আসেন।”
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকটের কারণে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি কার্যত নামমাত্র সেবা দিচ্ছে। এখানে মাত্র সাত ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হয়, যা মূলত সর্দি-জ্বর, মাথাব্যথা ও আমাশয়ের মতো সাধারণ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। অনেক সময় এসব ওষুধও মজুত থাকে না। ফলে জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, জরুরি রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্যপরামর্শ, রোগ নির্ণয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, “মেডিক্যাল অফিসারদের প্রাথমিকভাবে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়োগ দেওয়া হলেও তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী দেখেন। বর্তমানে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে এভাবেই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোনো জরুরি রোগী এলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।”
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, আমডাঙ্গা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দ্রুত চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। তাদের মতে, এতে এলাকার সাধারণ মানুষ সহজেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাবেন এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যেতে হবে না।