
শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আনসাবাড়িয়া রেলস্টেশনে ট্রেন থামিয়ে এলাকাবাসী অবরোধ করেছে। রেলস্টেশনে স্থায়ী ভাবে স্টেশন মাস্টার দেওয়া, রেলস্টেশন সংস্কার করা ও আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের আপ-ডাউন যাত্রাবিরতি এবং ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম চালুর দাবিতে উক্ত অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী ও সাধারণ যাত্রীরা। এ সময় খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী রুপসা ট্রেনটি আনসারবাড়িয়া রেলস্টেশনে থামিয়ে রাখা হয়। এসময় দর্শনা ও কোটচাঁদপুর রেলস্টেশনে আপ ও ডাউন অভিমুখী বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ও ঢাকাগামী ট্রেন আটকা পড়ে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের আনসারবাড়িয়া রেলস্টেশন চত্বরে এ অবরোধ অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।
অবরোধকারীরা বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলার অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন আনসারবাড়িয়া । অথচ এখানে আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নিয়মিত যাত্রাবিরতি না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। স্টেশনটি আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ইউনিয়নের এবং বিভিন্ন এলাকার অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও দূরপাল্লায় মালামাল পরিবহনে এ স্টেশন ব্যবহার করেন।
তারা আরও বলেন, বর্তমানে স্টেশনটিতে যে ট্রেনটি থামে, সেটিও ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ায়। ফলে সেখানে প্লাটফর্ম না থাকায় নিচ থেকে উঁচুতে উঠে ট্রেনে ওঠানামা করতে গিয়ে নারী, বয়স্ক ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ অবস্থায় ১ নম্বর লাইনে ট্রেন থামানো জরুরি । আনসারবাড়িয়া রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও ১ নম্বর লাইনে ট্রেন থামানোসহ আন্তনগর ট্রেনটি থামানোর দাবি যদি আগামী ৭২ ঘণ্টা মধ্যে মেনে না নেওয়া হয়, তাহলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এসময় জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন ও জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম মোক্তার, সাংবাদিক রাশেদুজ্জামান রাসেদ সহ আন্দোলনরত নেতারা বক্তব্য রাখেন। তিন ঘণ্টা পর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ রেলের পশ্চিমাঞ্চলের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে তাদের আশ্বাসে অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেন।