
শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক্সকাভেটর দিয়ে মালয়েশিয়া প্রবাসী রফিউদ্দীনের বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনায় স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছেন দ্রুত বিচার আদালত। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ আইন অনুযায়ী অপরাধ সংঘটনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গার দ্রুত বিচার আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী নাজনীন এ আদেশ দেন।
এ ঘটনায় সময়ের আলোসহ স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় ‘চুয়াডাঙ্গায় দ্বিতীয় স্ত্রীর স্বজনদের বিরুদ্ধে প্রবাসীর বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ’ সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের নজরে আসে। একইসঙ্গে ঘটনাটির ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও আদালতের নজরে আসে। এরপর ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ নির্দেশনায় বিষয়টি নিয়ে মিস কেস খোলা হয়।
আদালতের আদেশ ও সংবাদে জানা যায়, তিনি প্রথমে একই গ্রামের ছনিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। বিদেশে অবস্থানকালে পারিবারিক নানা জটিলতায় তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি থানা পর্যায়ে সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এরপর দেশে ফিরে রফিউদ্দীন একই গ্রামের রিমা খাতুনকে বিয়ে করেন। অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ের প্রায় ১ বছর পর তিনি আবারও প্রথম স্ত্রী ছনিয়া খাতুনকে সংসারে ফিরিয়ে নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় স্ত্রী রিমা খাতুনের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ ও আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, এরই জেরে গত ২ আগস্ট উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামের রফিউদ্দীনের বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা এক্সকাভেটর দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করে, সংশ্লিষ্টদের আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত ছিল।
আদালতের সার্বিক পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে তাদের অপরাধ প্রতীয়মান হয়েছে। তবে, ঘটনায় জড়িত সকলের নাম-ঠিকানা ও উপযুক্ত সাক্ষীদের পরিচয় স্পষ্ট না হওয়ায়, আদালত বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন। এ জন্য এসব তথ্যসহ অন্য কোনো ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে, তা বিস্তারিত তদন্ত করে আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, স্থানীয় ‘দৈনিক মাথাভাঙ্গা’ পত্রিকায় প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট সংবাদের প্রিন্টেড কপি মামলার নথিতে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।