
মোঃ আব্দুর রহীম মিঞা, টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি ওষুধ পাচার এবং এ ঘটনায় এক পিকআপচালককে মামলায় আসামি করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আবু নঈম মো. সোহেলকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত আদেশে ডা. আবু নঈম মো. সোহেলকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তৃপক্ষের অগোচরে সরকারি ওষুধ হস্তান্তরসহ উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ডা. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমানকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও ইমতিয়াজ। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি ওষুধ হাসপাতালের বাইরে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের দাবি, একটি পিকআপে করে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ নেওয়ার সময় সেটি আটক করা হয়। এ সময় পিকআপসহ ৫২ বস্তা ওষুধ উদ্ধারের কথা জানা গেলেও থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে ২৫ বস্তা ওষুধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ওষুধের আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ঘাটাইল থানায় পিকআপচালক আজমত আলীকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, পরিত্যক্ত গোডাউন থেকে রাতের আঁধারে পিকআপে করে ওষুধ চুরি করে নেওয়া হচ্ছিল। পরে শুক্রবার দুপুরে আজমত আলীকে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে শুধু পিকআপচালককে আসামি করায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মামলায় আসামি না করার প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয়রা শুক্রবার ও শনিবার বিক্ষোভ, অবরোধ এবং হাসপাতাল ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। পরে পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। একই সঙ্গে পিকআপচালকের মুক্তি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন বিক্ষোভকারীরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, সরকারি ওষুধ কীভাবে হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণাধীন স্থান থেকে বাইরে গেল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—তদন্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে ইউএইচএফপিওকে ওএসডি এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এখন তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছেন তারা। তাদের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করার কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকৃত ঘটনা ও দায় নির্ধারিত হওয়ার পরই পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।