
হেলাল উদ্দিন, নাচোল( চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সোনাইচন্ডি হাটে যুগের পর যুগ ধরে খোলা আকাশের নিচে চলছে চুল-দাড়ি কাটার কাজ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় দেশের সেলুনগুলোতে যখন বিলাসবহুল চেয়ার আর শিতাতপত নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের (এসি) ব্যবহার বাড়ছে, তখন বুধবারের এই সাপ্তাহিক হাটে গরিব ও শ্রমজীবী মানুষরা মাটির উপর কিংবা প্লাস্টিকের বস্তা বা কাঠের টুলে বসে চুল-দাড়ি কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে তীব্র রোদ আর বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন একদল প্রান্তিক নাপিত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক হাটের দিনে সরেজমিনে দেখা যায়, ধুলো-বালি আর কোলাহলের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে চলছে খুর-কাঁচির খটখট শব্দ। সোনাইচন্ডীর এই বিখ্যাত হাটে দূর – দূরান্ত থেকে আসা কৃষক, দিনমজুর এবং নিম্ন আয়ের মানুষরাই এখানকার মূল গ্রাহক। মাত্র ২০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে চুল ও দাড়ি কাটার সুবিধা মেলায় তারা আধুনিক সেলুনের চেয়ে এই খোলা আকাশকে বেছে নিয়েছেন।
সেবানিতে আসা কয়েকজন দিনমজুর জানান, তাদের আয় সীমিত। বড় বড় সেলুন গিয়ে বেশি টাকা দিয়ে চুল দাড়ি কাটার সামর্থ্য তাদের নেই। এই হাটে তারা সস্তায় কাজ সেরে নিতে পারে। তবে রোদ বা হুট করে বৃষ্টি নামলে তাদের খুব কষ্ট পেতে হয়।অন্যদিকে কয়েকজন প্রবীন নাপিত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তারা গরিব মানুষদের সেবা দিয়ে থাকেন এবং নিজেরাও গরিব মানুষ। তারাই এই হাটের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। কিন্তু তাদের মাথার ওপর একটি স্থায়ী ছাদ বা শেড নেই। রোদ বৃষ্টির সময় গ্রাহকরা যেমন কষ্ট পান,তারাও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাজ করতে গিয়ে কোমর ও পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা পেয়ে থাকেন।
ঐতিহ্যবাহী সোনাইচণ্ডী হাটের এই চিরচেনা দৃশ্য একদিকে যেমন গ্রামীণ বাংলার এক টুকরো অতীতকে মনে করিয়ে দেয়, অন্যদিকে তেমনি প্রান্তিক মানুষের জীবন সংগ্রামের এক নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী কারিগরদের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই হাটের এক কোণে নাপিতদের জন্য একটি স্থায়ী সরকারি শেড বা বসার সুব্যবস্থা করে দেওয়া হতো, তবে এই শ্রমজীবী মানুষগুলো রোদ-বৃষ্টির ভোগান্তি থেকে অনেকটা রক্ষা পেত।