
ন্যাশনাল ডেস্ক
কুড়িগ্রামে গবাদিপশুর মধ্যে ক্ষুরা রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে আক্রান্ত অন্তত ৯টি গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জেলার কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় শত শত গবাদিপশুর মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে খামারিদের মধ্যে।
কুড়িগ্রাম সদরের কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের হরিশ্বর জোৎগোবরধন এলাকায় গত এক সপ্তাহে ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে একটি গর্ভবতী গাভিসহ দুটি গরু মারা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় অন্তত ২০ থেকে ২৫টি গরু আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত গরুগুলোর মুখ ও পায়ে ঘা, জ্বর এবং খাবার গ্রহণে অনীহাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর কোরবানি ঈদ উপলক্ষে কুড়িগ্রামে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার গরু এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ছাগল-ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে ক্ষুরা রোগের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় খামারিদের মধ্যে আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, জেলার তিনটি উপজেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ গরু আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিনই নতুন নতুন আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ভাইরাসবাহিত রোগ হওয়ায় দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভাইরাসজনিত এই রোগ দ্রুত এক গবাদি পশু থেকে অন্য পশুতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আক্রান্ত এলাকার পাশাপাশি জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। ঈদের আগে পশুর হাট ও পরিবহন বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আক্রান্ত এলাকায় মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। আক্রান্ত পশুকে চিকিৎসা প্রদান, খামারিদের সচেতন করা এবং সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, তিনটি উপজেলায় সংক্রমণের মাত্রা বেশি হলেও অন্যান্য উপজেলাতেও রোগ দেখা যাচ্ছে। এ পর্যন্ত শুধু গরুর মধ্যেই এই রোগ শনাক্ত হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে থেকে আক্রান্ত পশুর চিকিৎসা দিচ্ছি এবং খামারিদের সচেতন করছি।