
দৃশ্যপট ডেস্ক রিপোর্ট
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার অটোভ্যান চালক নাঈম হোসেনের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ প্রশাসন। পরিবারের দুর্দশার খবর প্রকাশ্যে আসার পর মানবিক সহায়তা হিসেবে আর্থিক অনুদান, খাদ্যসামগ্রী ও ঈদ উপহার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে নিহতের বাড়িতে। পুলিশের এমন সহমর্মিতায় কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে শোকাহত পরিবারটিতে।
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে রায়গঞ্জ উপজেলার ধুবিল ইউনিয়নের মালতিনগড় গ্রামে গিয়ে নিহত নাঈমের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের হাতে সহায়তার সামগ্রী তুলে দেন রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান। সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতুর সার্বিক সহযোগিতায় জেলা পুলিশ সুপারের তহবিল ও রায়গঞ্জ সার্কেলের উদ্যোগে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আছলাম, গণমাধ্যমকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী।
সহায়তা প্রদানকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন,
“নাঈম হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। একইসঙ্গে নিহতের পরিবার যেন অসহায় হয়ে না পড়ে, সেজন্য মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।”
স্বামী হারিয়ে দিশেহারা নিহত নাঈমের স্ত্রী খাদিজা খাতুন অনুদান পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,“স্বামীকে হারিয়ে সন্তান নিয়ে কীভাবে বাঁচবো বুঝতে পারছিলাম না। অনেকেই খোঁজ নিয়েছেন, কিন্তু পুলিশ প্রশাসন যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে তাতে কিছুটা সাহস পেয়েছি। এখন মনে হচ্ছে আমরা একা নই।”
বাবাকে হারানোর শোক যেন এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি সাত বছরের শিশু আল ইমরান। চোখের জল মুছতে মুছতে সে বলে,“আমার আব্বুকে যারা মেরে ফেলছে তাদের বিচার চাই। আব্বু ছাড়া আমাদের কেউ নাই। আমি বড় হয়ে পুলিশ হবো, আমার বাবার হত্যাকারীদের বিচার করবো। পুলিশের আঙ্কেলরা আমাকে ঈদের শুভেচ্ছা আর অনেক কিছু দিয়েছেন। তাদের ধন্যবাদ।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, দরিদ্র অটোভ্যান চালক নাঈমই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে স্ত্রী ও ছোট সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। মানবেতর জীবনযাপনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় সহমর্মিতার সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল রাতে সলঙ্গা থানার ধুবিল ইউনিয়নের মালতিনগড় গ্রামের বাসিন্দা নাঈম হোসেন (২৪) অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরদিন পাশের খৈচালা গ্রামের একটি বিলের ধারে গলাকাটা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় তার অটোভ্যানটিও ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।