
শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে কথা বলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ঈদের ছুটি শেষে অফিস-আদালত খোলার দিন থেকেই শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। চুয়াডাঙ্গায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। সোমবার (২৫ মে) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতায় যেসব বিচারিক আদালত রয়েছে, সেই আদালতগুলো ছুটির বাইরে রাখার জন্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালতগুলো খোলা থাকবে। আপনারা দেখবেন, ১ জুন থেকে রামিসার বিচার শুরু হচ্ছে। ঈদের ছুটির পর প্রথম যে দিন অফিস আদালত খুলবে, ওদিনই রামিসার ঘটনার বিচার শুরু হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামি জবানবন্দি দিয়েছেন। আমরা বলেছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট, (চার্জশিট) হয়েছে। আমরা বিচারের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে গেছি।’
ঝিনাইদহে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঝিনাইদহে এনসিপির সঙ্গে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা এনসিপি যেমন রাজনৈতিকভাবে দেখছে, বিএনপিও একইভাবেই দেখছে। তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিষয়ে স্থানীয়ভাবে যে আচরণ করা হয়েছে, সেটা কেউ কামনা করে না এবং শোভনীয় নয়।’
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জেলা যুবদলের সভাপতি শরিফ-উর জামান সিজার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝন্টু, ছাত্রদলের সভাপতি শাহাজান খান, সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ শরীফুল আলম বিলাস, সাধারণ সম্পাদক এম এ তালহা, কৃষকদলের সভাপতি মোকাররম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তবারক হোসেন ও জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবীব সেলিম। সহ সকল উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
পরে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত আটচালা ঘর সংলগ্ন মিশনারি মাঠ প্রাঙ্গণে কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী জন্মজয়ন্তীর সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, “কবি নজরুল তার জীবনের কাজের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ এবং বিদ্রোহী চেতনা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির পথ তৈরি করেছেন।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে এই মহান কবির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানো হয় এবং তার লেখনী তরুণদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দিশা বলে অভিমত প্রকাশ করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নজরুল গীতি, কবিতা আবৃত্তি এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের প্রাণবন্ততা বৃদ্ধি পায়। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ রুহুল কবীর খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান প্রমুখ। সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে মন্ত্রী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত আটচালা সংলগ্ন স্মৃতিস্তম্ভ ফুল দিয়ে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।