
মোঃ হেলাল উদ্দিন, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
দরজায় কড়া নাড়ছে অগ্রহায়ণের সুবাস। আর মাত্র একটি রাত পার হলেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বরেন্দ্র খ্যাত নাচোল উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে আমন ধান কাটার মহা-উৎসব। অগ্রহায়ণের ২/১ দিন আগে থেকেই বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের শুরু হবে টানা ছয় মাসের হাড়ভাঙ্গা খাটুনি ও স্বপ্নের সোনালী ফসল ঘরে তোলার কর্মযজ্ঞ।
এই সোনালী উৎসবকে কেন্দ্র করে নাচোল উপজেলার কামারপল্লীগুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড়। মাঠের পাকা ধান কাটতে কাস্তে প্রস্তুত করতে দিনমজুর ও কৃষকেরা ভিড় জমিয়েছেন কামার দোকানগুলোতে। ফলে কামারদের হাঁপর টানা আর হাতুড়ি পেটানোর ‘টুংটাং’ শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। অর্ডার সময়মতো বুঝিয়ে দিতে দিনরাত এক করে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করছেন কামার কারিগরেরা।
নাচোলের এলাইপুর গ্রামের কামারপল্লীর এক কারিগর চন্দন কর্মকার জানান, ধান কাটার মৌসুম শুরু হওয়ায় তাদের কাজের চাপ এখন আকাশচুম্বী। তিনি বলেন, “বর্তমানে প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে।” চন্দন আরও জানান, প্রায় ছয় মাস আগে তাঁর পিতা শ্রীপতি কর্মকার মারা যান। বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর পরিবারের হাল ধরতে এবং পূর্বপুরুষদের এই ঐতিহ্যবাহী পেশাকে টিকিয়ে রাখতে তিনি এই কাজে যোগ দেন। এভাবেই বংশপরম্পরায় তাঁরা এই কর্মকারের কাজ ধরে রেখেছেন।
একই গ্রামের ধানচাষী মাইজুল ইসলাম জানান, ধান কাটার এই পুরো মৌসুমজুড়ে কাস্তের ব্যবহার অপরিসীম। ভালো ও ধারালো কাস্তে ছাড়া দ্রুত ধান কাটা সম্ভব নয়। তাই আগেভাগেই সবাই নিজের পুরোনো কাস্তে শান দিয়ে নিচ্ছেন, আবার অনেকেই নতুন কাস্তে তৈরি করে নিচ্ছেন।
বরেন্দ্র অঞ্চলের এই আমন উৎসব যেমন কৃষকদের মুখে হাসি ফোটায়, তেমনি কামারপল্লীর কারিগরদের জীবনেও নিয়ে আসে অর্থনৈতিক সুদিন। দিনরাত পরিশ্রমের ক্লান্তি ভুলে সোনালী ফসল ঘরে তোলার এই আনন্দে মেতে উঠেছে গোটা নাচোল উপজেলা।