
পলাশ চন্দ্র সরকার,মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দা উপজেলার বৈদ্যপুর হাটের উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ভালাইন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে। অনুন্নত হাটের ১০ শতাংশ অর্থে ওই হাটটিতে চারটি প্রকল্প নেওয়া হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রকল্পগুলোতে নিম্নমানের কাজ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে।
এ ছাড়া হাটের জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণ, জামানত হিসেবে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং মাসিক ভাড়া আদায় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে চেয়ারম্যান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাটবাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির ৯ জুলাইয়ের সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে হাটটির উন্নয়নের জন্য ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। উন্নয়নে বরাদ্দ করা অর্থে চারটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
এর মধ্যে হাটের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনে ৩ লাখ টাকা, পানপট্টি গলি ও স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের রাস্তা সিসিকরণ এবং কাঁচাবাজারের নালার ওপর স্ল্যাব নির্মাণে ৩ লাখ টাকা, তরকারি বাজারে বসার ছাউনি নির্মাণ ও নলকূপ স্থাপনে ৩ লাখ টাকা এবং দুটি ডাস্টবিন কেনার জন্য ৩৫ হাজার ৮৬২ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটের বিভিন্ন স্থানে ১৫টি (হিক ভিশন ব্র্যান্ডের) সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পানপট্টি গলি ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের সড়কে ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে এবং নালার ওপর কয়েক ফুট স্ল্যাব নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া তরকারি বাজারে ইটের তৈরি খুঁটির ওপর টিনের ছাউনি দিয়ে একটি বসার স্থান তৈরি করা হয়েছে। সেখানে একটি নলকূপও স্থাপন করা হয়েছে।
তবে এসব কাজের মান ও ব্যয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, কাজের তুলনায় ব্যয় বেশি দেখানো হয়েছে। স্থাপিত নলকূপটিও কয়েক দিনের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়।
প্রকল্পের বরাদ্দ অনুযায়ী, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনে ৩ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। পানপট্টি গলি ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের রাস্তা এবং নালার ওপর স্ল্যাব নির্মাণে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩ লাখ টাকা। একই পরিমাণ অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে বসার ছাউনি নির্মাণ ও নলকূপ স্থাপনে। এ ছাড়া দুটি ডাস্টবিনের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৮৬২ টাকা। সরেজমিনে একটি প্লাস্টিকের ডাস্টবিন বক্স দেখা গেছে।
বৈদ্যপুর হাটের ইজারাদার হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকারি বরাদ্দের অর্থে হাটের জায়গা দখল করে একটি টিনের দোকানঘর নির্মাণ করেছেন চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা। পরে ঘরটি মাসিক ৬০০ টাকা ভাড়ায় হায়দার আলী নামের এক সুতা ব্যবসায়ীর কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জামানত হিসেবে ৫০ হাজার টাকা চেয়ারম্যান নিজে নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, হাটে নির্মিত ছাউনিটি ইটের তৈরি খুঁটিতে দায়সারাভাবে করা হয়েছে। ছাউনির মেঝে ও পানপট্টি গলির সড়কের ঢালাইয়ের মানও নিম্নমানের। তাঁদের অভিযোগ, উন্নয়নকাজে বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, হাটের বিভিন্ন স্থানে দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জামানত হিসেবে ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দোকানপ্রতি মাসে ৬০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এসব অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা তাঁরা জানেন না।
জানা গেছে হাট উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ তদারকির দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের ও তাঁর দপ্তরের একজন সহকারী প্রকৌশলী। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাঁদের যথাযথ তদারকির অভাবে প্রকল্পের কাজে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রকল্পের কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। স্বচ্ছতার সঙ্গে সব কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। দোকানঘরের জামানতের টাকা ইউনিয়ন পরিষদের তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের বলেন, কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হওয়ায় প্রকল্প সভাপতির অনুকূলে অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে পরে জানানো হবে।’