
অনলাইন ডেস্ক
আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় দুধ এক অপরিহার্য ও সর্বজনীন উপাদান। সকালের এক কাপ গরম চা, কফি থেকে শুরু করে শিশুদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা কিংবা নানা পদের ডেজার্ট তৈরি—প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে আমরা দুধ ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু আপনার পরম যত্নে কেনা এই দুধ সত্যি কতটা খাঁটি ও নিরাপদ, তা নিয়ে সংশয় থেকে যায়। ইদানীং বাজারে বিক্রি হওয়া দুধে কৃত্রিমভাবে ঘন ভাব আনতে বা উপরিভাগে ফেনিল ভাব ধরে রাখার জন্য অসাধু উপায়ে ক্ষতিকর ডিটারজেন্ট মেশানোর নানা অভিযোগ সামনে আসছে।
খালি চোখে বা শুধু গন্ধ শুঁকে এই ভেজাল ধরা সহজ নয়। তবে কোনো ল্যাবরেটরি টেস্ট ছাড়াই কীভাবে বাড়িতে বসে সামান্য কাচের গ্লাসেই খাঁটি দুধ চিনবেন, তার বৈজ্ঞানিক ও অত্যন্ত সহজ উপায় বাতলে দিয়েছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া।
১. দুধে ডিটারজেন্ট মেশানোর কারণ ও এর বিজ্ঞান
বাজারে কেনা দুধকে জল মিশিয়ে পাতলা করার পর সেই পাতলা ভাব ঢাকতে এবং দুধকে ঘন ও ফেনিল দেখাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে থাকে।
বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, খাঁটি দুধের পৃষ্ঠটান বেশ বেশি থাকে। ফলে খাঁটি দুধ ঝাঁকালে বুদ্বুদ বা ফেনা তৈরি হলেও তা দ্রুত ফেটে গিয়ে মিলিয়ে যায়। কিন্তু জল মেশানো দুধে যখন ডিটারজেন্ট যোগ করা হয়, তখন তা দুধের স্বাভাবিক পৃষ্ঠটান অনেকটাই কমিয়ে দেয়। ডিটারজেন্টের রাসায়নিক উপাদানগুলো বাতাস ও তরলের মধ্যবর্তী স্থানে এক ধরনের স্থিতিস্থাপক স্তর গড়ে তোলে, যার কারণে দুধের ফেনা সহজে কমে না এবং তা বেশ কিছুক্ষণ স্থায়ী হয়।
২. ঘরে বসে ৫ মিনিটে পরীক্ষা
বাড়িতে বসেই দুধের ভেজাল পরীক্ষা করার সহজ নিয়মটি নিচে দেওয়া হলো:
ধাপ ১: প্রথমে একটি পরিষ্কার ছোট কাচের গ্লাস বা বোতলে ৫ থেকে ১০ মিলিলিটার সমপরিমাণ দুধ নিন।
ধাপ ২: পাত্রের মুখ চেপে ধরে বা বন্ধ করে দুধটুকু ভালোভাবে কয়েক সেকেন্ড ঝাঁকিয়ে নিন।
ধাপ ৩: এবার দুধের পরিবর্তন লক্ষ্য করুন। ঝাঁকানোর পর যদি দুধে স্থায়ী কোনো ফেনা না জমে এবং তা সাথে সাথেই মিলিয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে দুধটি একদম খাঁটি।
ধাপ ৪: পক্ষান্তরে, যদি ঝাঁকানোর পর দুধের উপরিভাগে পুরু ও ঘন ফেনা তৈরি হয় এবং তা দীর্ঘক্ষণ ধরে থেকে যায়, তবে বুঝতে হবে সেই দুধে ডিটারজেন্ট মেশানো রয়েছে।
৩. ভেজাল দুধ এড়াতে ও নিরাপদে কেনাকাটায় দৈনন্দিন কিছু টিপস
দৈনন্দিন কেনাকাটায় একটু সচেতন হলেই পরিবারকে ভেজাল দুধের ক্ষতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব:
বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের ওপর ভরসা: মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে কাজ করা বিশ্বস্ত ও সুপরিচিত ব্র্যান্ডের দুধ নির্বাচন করা তুলনামূলক নিরাপদ।
প্যাকেটের গায়ে লাইসেন্স ও লোগো পরখ করা: প্যাকেটজাত দুধ কেনার আগে প্যাকেটের গায়ে নির্দেশিত লোগো এবং লাইসেন্স নম্বরটি খেয়াল করুন।
প্যাকেজিং পরীক্ষা: প্যাকেট কেনার আগে তার সিল, উপাদানের তালিকা এবং সুরক্ষা চিহ্ন যাচাই করে নিন।
প্যাকেটের প্রকারভেদ: সাধারণ পাতলা প্লাস্টিকের প্যাকেটের চেয়ে ‘টেট্রা প্যাক’ কার্টনে পাওয়া দুধ কেনা অনেক বেশি নিরাপদ, কারণ প্লাস্টিকের পলিথিন প্যাকেটে সহজে ভেজাল বা কারচুপি করার সুযোগ থাকে।
তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াল