
ন্যাশনাল ডেস্ক
নওগাঁয় দুর্গাপূজার উৎসবের মধ্যে একটি মণ্ডপে ঢুকে কুড়ালের কোপে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার হাতাশ খাড়াপাড়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় গোলাম রাব্বানি নামের ওই যুবককে আটক করে পুলিশ।
অভিযুক্ত যুবক একজন ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ; আবার অনেকেই বলছেন তিনি ‘ভান’ ধরেছেন।
এ ঘটনায় পূজামণ্ডপে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রতিমা ভাঙচুরের উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার হাসাইগাড়ি ইউনিয়নের হাতাশ খাড়াপাড়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপে এ ঘটনা ঘটে। আটক গোলাম রাব্বানি একই ইউনিয়নের মধ্য হাতাশপাড়ার মোহাম্মদ মুসার ছেলে।
পূজা উদযাপন কমিটি, মণ্ডপের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে হাতে কুড়াল নিয়ে মণ্ডপে প্রবেশ করেন গোলাম রাব্বানি। এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গণেশ প্রতিমায় দুই থেকে তিনটি কোপ দিয়ে সেটি ভাঙচুর করেন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন ও আনসার সদস্যরা তাকে কুড়ালসহ আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
মণ্ডপের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য মোছা. ফাতেমা বেগম বলেন, আমরা দুই নারীসহ চারজন দায়িত্বে আছি। সকালে আমরা দুই নারী সদস্য পাশের খেতে গিয়েছিলাম। এ সময় হঠাৎ গোলাম রাব্বানি কুড়াল দিয়ে গণেশ প্রতিমায় দুই-তিনটি কোপ দিয়ে ভেঙে দেয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে কুড়ালসহ আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বে আসার পর থেকেই ওই যুবককে কয়েকবার মণ্ডপে আসা-যাওয়া করতে দেখেছেন তারা। তার দাবি, যুবকটি মানসিক ভারসাম্যহীন নন, বরং সে এমন আচরণের ভান করছেন।
হাতাশ খাড়াপাড়া পূজামণ্ডপের সাংগঠনিক সম্পাদক নিখিল প্রামানিক বলেন, আজ সপ্তমীর দিন। হঠাৎ ছেলেটি এসে কুড়াল দিয়ে গণেশ প্রতিমা ভেঙে দেয়। এতে বাড়িতে আসা আত্মীয়স্বজনসহ স্থানীয় হিন্দুরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। ঘটনার পর আমাদের পূজার সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রশাসন, পুলিশ ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ স্থানীয় নেতারা তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। একজন কারিগর এনে প্রতিমা মেরামত করে পূজার কার্যক্রম চালিয়ে নিতে সার্বিক সহযোগিতার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। বিকেলে সংসদ সদস্যের ঘটনাস্থলে আসার কথা রয়েছে।
নিখিল প্রামানিক আরও বলেন, আমরা চাই, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হোক।
সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মাধব চন্দ্র কর্মকার বলেন, প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কে এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব। উৎসবের বাকি দিনগুলোতে তারা যেন নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক প্রদীপ কুমার কুন্ডু বলেন, প্রতিমা ভাঙচুরের খবর পেয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। পরে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা জানান তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে প্রদীপ কুমার কুন্ডু বলেন, এমন ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ প্রতিমা ভাঙচুরের সাহস না পায়।
এদিকে আটক যুবকের মানসিক অবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করছেন, আবার কেউ বলছেন, তিনি এমন আচরণের ভান করছেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ধর্মীয়ভাবে স্পর্শকাতর হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি গুজব প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। ওই যুবক পুলিশের হেফাজতে আছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশের উপস্থিতিতে বর্তমানে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সূত্রঃ দৈনিক কালবেলা।