
মোঃ আজিজুল হাকিম পার্বতীপুর(দিনাজপুর)প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী ও খনি শ্রমিকদের স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় খনির প্রধান ফটক সংলগ্ন চৌহাটি এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে অংশ নেন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা ও আন্দোলনরত খনি শ্রমিকরা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা তাদের দাবির সপক্ষে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডে ‘অবৈধ নিয়োগ বাতিল কর, করতে হবে’ এবং ‘১২৮৮/২০১৮ নম্বর উচ্চ আদালতের রায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই’—এমন নানা দাবি তুলে ধরা হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার এক অপচেষ্টা চলছে। অনতিবিলম্বে এই বিতর্কিত ও একতরফা নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করার জোর দাবি জানান তারা। বক্তারা বলেন, খনি নির্মাণের ফলে ঘরবাড়ি ও ভিটেমাটি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ এবং দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার উপেক্ষা করে কোনো নিয়োগই গ্রহণযোগ্য হবে না। উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও রায় মেনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে সংহতি ও বক্তব্য প্রদান করেন আন্দোলনকারী তোফায়েল আহমেদ, লিয়াকত আলী, ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান, শ্রমিক নেতা মাহাবুব হোসেন, ‘তের গ্রাম’ আন্দোলনের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা এবং শ্রমিক প্রতিনিধি এরশাদসহ অনেকে।
এ ছাড়া কর্মসূচি চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম শাহ, মমিনুল ইসলাম (ডাক্তার), শরিফুল ইসলাম, দীপঙ্কর মানিক শাহ এবং রবিউল ইসলাম বাবুসহ অন্যান্য স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ থেকে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকদের আইনি ও ন্যায়সংগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের এই সুনির্দিষ্ট ও ন্যায়সংগত দাবি মেনে নেওয়া না হলে খনিতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। প্রয়োজনে আগামীতে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সার্বিক কার্যক্রম পুরোপুরি অচল করে দেওয়াসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার স্পষ্ট রূপরেখা দেন আন্দোলনকারীরা।