
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে গবাদিপশু চুরির ঘটনা। গত ২৮ দিনের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের হাতে অন্তত ২৪টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে।
একের পর এক এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় স্থানীয় খামারি ও সাধারণ কৃষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মাধাইনগর ইউনিয়নের মালসিন গ্রামের এক কৃষকের গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরি হয়। পরবর্তীতে বিনসাড়া এলাকার জঙ্গল থেকে চোরচক্রের ফেলে যাওয়া একটি গরু স্থানীয়রা উদ্ধার করতে পারলেও বাকিগুলোর সন্ধান মেলেনি। একই রাতে দেশীগ্রাম ইউনিয়নের কর্ণঘোষ গ্রামের কৃষক সেলিম রেজার বাড়ি থেকে আরও দুটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরচক্র।
আরো পড়ুন:তাড়াশে ২৪ দিনে ১৯ গরু চুরি, আতঙ্কে খামারি-কৃষক
এর আগে গত ২২ আগস্ট দিবাগত রাতে উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের সিংগাড়পাড়া গ্রামের বিপ্লবের বাড়ির গোয়ালঘরের তালা ভেঙে দুধেল গাভীসহ পাঁচটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চোরচক্র।
এর কিছুদিন পর, ১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে তাড়াশ পৌর এলাকার খুটিগাছা গ্রামের হায়দার আলীর বাড়ি থেকে এক রাতেই আটটি গরু চুরি হয়।
পরপর চুরির ধারাবাহিকতায় ১৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নে পৃথক দুটি চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় পেঙ্গুয়াড়ি গ্রামের মন্টু মিয়ার বাড়ি থেকে চারটি এবং কুসুম্বি গ্রামের ছাবেদুল ইসলামের বাড়ি থেকে দুটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এলাকায় দিন দিন গরু চুরি, ডাকাতি এবং মাদকের অপব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরো পড়ুন:সিরাজগঞ্জে দুই উপজেলায় তিন রাতে পাঁচ কৃষকের ২০ গরু চুরি
সংঘবদ্ধ চোরচক্রের বেপরোয়া চুরির কারণে তাড়াশের খামারি ও কৃষকেরা এখন অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি। রাতারাতি লক্ষাধিক টাকার গবাদিপশু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া পরিবারগুলোতে চরম হাহাকার ও দুশ্চিন্তা নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.ইমাম জাফর জানান, “গরু চুরির বিষয়গুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। ইতোমধ্যে পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করতে কাজ চলছে। দ্রুতই এই চক্রকে গ্রেপ্তার করে চুরি হওয়া গবাদিপশু উদ্ধার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”