
ন্যাশনাল ডেস্ক
প্রায় ২১ বছর পর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। ফলে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এই ম্যাচ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াইকে টুর্নামেন্টের ‘সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ম্যাচ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। তাই ঐতিহাসিক এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ম্যাচকে সামনে রেখে ফিফা, এফবিআই এবং আটলান্টা পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ম্যাচ উপলক্ষে আটলান্টা স্টেডিয়ামের আশপাশ, ফ্যান জোন, গণপরিবহন কেন্দ্র এবং জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহলও বাড়ানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে আটলান্টা পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, আসন্ন বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি এবং শহরে বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা ও দর্শনার্থীর আগমনকে সামনে রেখে আটলান্টা পুলিশ বিভাগ নগরজুড়ে জননিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও প্রয়োজনীয় সম্পদ ইতোমধ্যেই মোতায়েন করা হয়েছে এবং ইভেন্ট ভেন্যু, বিনোদন এলাকা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে কৌশলগতভাবে তাদের মোতায়েন অব্যাহত থাকবে, যাতে সবাই নিরাপদ ও আনন্দদায়ক পরিবেশে এই আয়োজন উপভোগ করতে পারেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেবল স্টেডিয়ামেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ম্যাচকে কেন্দ্র করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, গণপরিবহন কেন্দ্র এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের স্থানগুলোতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সমর্থকদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহু দশকের পুরোনো। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের পর থেকে দুই দেশের ম্যাচ সবসময়ই বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করে। সেই ইতিহাসের কারণেই নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এবারও বাড়তি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে, আর্জেন্টিনার ‘এপ্রিল ২ ওয়ার ভেটেরান্স ফেডারেশন’ সমর্থকদের প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, এই ম্যাচকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের মঞ্চ হিসেবে নয়, বরং একটি ফুটবল ম্যাচ হিসেবেই দেখা উচিত। তারা ফকল্যান্ড (মালভিনাস) ইস্যুকে ঘিরে বিদ্বেষ বা উসকানিমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
ম্যাচটির গুরুত্ব বিবেচনায় সম্প্রচার পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন এনেছে বিবিসি। বাজেট সাশ্রয়ের কারণে টুর্নামেন্টের শুরুতে কিছু ম্যাচ যুক্তরাজ্যের সালফোর্ড স্টুডিও থেকে সম্প্রচার করলেও, ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে ওঠায় সম্প্রচার দলকে সরাসরি আটলান্টায় পাঠানো হয়েছে। বিবিসির আশা, ম্যাচটি রেকর্ডসংখ্যক দর্শক আকর্ষণ করবে।