1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
বাড়লো গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মী মর্যাদা হারালো মফস্বল সাংবাদিকতা রাখাইনে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি, টেকনাফ সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক জার্মান প্রবাসীকে মারপিট ও জমি দখল করে মাটিভরাট শাহজাদপুরে যমুনার তান্ডব: বসতবাড়িসহ ৬ গ্রামের ৬শ একর ফসলি জমি বিলীন অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা কালিয়াৈকর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবলের সংকট সাধারণ রোগীদের চরম ভোগান্তি  জনগণের উপর কোনভাবেই ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল চাপিয়ে গ্রহনযোগ্য নয়- এমপি এরশাদ উল্লাহ্ সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় রামগঞ্জের এক প্রবাসীর মৃত্যু  ভূরুঙ্গামারীতে জামায়াতের আমীরের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অর্থ সহায়তা প্রদান ভূঞাপুরে ঝোপের আড়ালে গাঁজার চাষ, আটক ১

বাড়লো গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মী মর্যাদা হারালো মফস্বল সাংবাদিকতা

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ২ Time View

আমার মাথায় অনেকদিন ধরেই একটি প্রশ্ন জেগেছে, আমরা যারা মফস্বলের গণমাধ্যমকর্মী, সাংবাদিকতা আদৌ কি আমাদের পেশা? পেশা বলতে যে কাজ করে মানুষের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়-সেটাকেই তো বুঝি? কিন্তু বাংলাদেশের জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে সাংবাদিকতার উপর নির্ভর করে ক’জনের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়? প্রশ্নটির উত্তর খোঁজার চেষ্টায় ফিরে যাই অতীতে……

 

 

 

যেভাবে আমার সাংবাদিকতায় আসা:

দরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন ছিল ছেলেবেলা থেকেই। কিশোর ও যুবক বয়সে গ্রামে যাত্রাপালা-নাটক, গানের আসরেই সময় কেটেছে। মনে কখনোই উচ্চ আকাঙ্খা জন্ম নেয়নি। নিজেকে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠার চিন্তাও ছিল না। উচ্চশিক্ষা, চাকরি-ব্যবসা কোনটার প্রতি আকৃষ্ট হইনি। মানুষকে আনন্দদানের মাধ্যমে নিজের সুখটা খুঁজে নিয়েছি। গাঁয়ের নাট্যদল থেকে ইউনিয়ন, এরপর জেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন। একনিষ্ঠতার কারণে সব সংগঠনে সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুদায়িত্ব এসে পড়েছে আমার কাঁধেই।

 

 

 

মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে মানবাধিকার নাট্য পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হই। সংগঠনটির ৭টি ইউনিটের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে জেলা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। ওই সময় পদাধিকার বলে “শিহরণ” নামে সংগঠনের মাসিক মুখপত্র সম্পাদনার দায়িত্ব পাই। মাঝে মাঝে কবিতা-গল্প লেখার অভ্যাস থাকলেও কখনোই সংবাদ লেখা হয়নি। তবে প্রতিদিনই একাধিক পত্রিকা পড়ার নেশাটা ছিল। এ অবস্থায় ‘শিহরণ’ সম্পাদনা ও সেটি ছাপাতে গিয়ে সাক্ষাত হয় ছাপাখানার মালিক ও স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা কামাল ভাইয়ের সঙ্গে। তিনি আমার কাজ দেখে তাৎক্ষণিক তার পত্রিকায় যোগদানের প্রস্তাব দিলেন। বেকার ছিলাম, প্রস্তাবটা লুফে নিলাম। ভাবলাম, এবার মানুষের জন্য অন্তত কিছু করতে পারবো-আবার সংসারের দায়িত্বটাও নিতে পারবো। 

 

 

 

সেই থেকে শুরু….ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে অল্প বেতনে ওই পত্রিকায় চাকরি নিলাম। অল্পদিনের মধ্যে বেতন বাড়ানোর আশ্বাস দিলেন সম্পাদক মহোদয়। শুরু হলো পেশাদার সাংবাদিকতা। সহকারি বার্তা সম্পাদক ও পরবর্তীতে বার্তা সম্পাদক হিসেবে প্রমোশন দিয়ে সামান্য বেতনও বাড়ানো হলো। 

 

 

 

কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই আমার স্বপ্নে চিড় ধরতে শুরু করলো। দেখলাম যে পেশার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিজের ঘরের ক্ষুদ্র চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ, সেই পেশায় কিভাবে মানুষের জন্য কাজ করবো? আমার ভেতরের বিবেকটা সবসময়ই এমন প্রশ্ন করতে থাকে। ভাবলাম হয়তো স্থানীয় পত্রিকায় চাকরি করছি, বেতন কম। এজন্যই সাংসারিক অভাব অনটন। জাতীয় পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হলে হয়তো আর্থিক সংকট কেটে যাবে। অভাব দুর হওয়ার পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজের পথও সুগম হবে। 

 

 

 

কয়েক বছর পর জাতীয় পত্রিকায় যোগদান করলাম। আরও তিন বছর পর একটি অনলাইন পোর্টালের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেলাম। এভাবে তিনটি মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত হই। অর্থনৈতিক মুক্তির আশাতেই এতগুলো মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়া। নিরলস পরিশ্রম করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করতে থাকলাম। 

 

 

 

ধীরে ধীরে টের পেতে শুরু করলাম জেলা পর্যায়ে সাংবাদিকতার সুবিধা ও প্রতিবন্ধকতা। পেশাগত কারণে দেশের শীর্ষ স্থানীয় পত্রিকা ও টেলিভিশন জেলা প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিশতে শুরু করলাম। প্রথম থেকে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর মিডিয়াগুলো সম্পর্কে জানার চেষ্টা করলাম। ওইসব মিডিয়ার জেলা পর্যায়ে কর্মরত অনেক সহকর্মীর জীবনমান সম্পর্কেও ধারণা নিলাম। মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকদের শ্রম এবং পারিশ্রমিকের বিষয়ে রীতিমতো হতাশ হলেও ভালো কিছুর প্রত্যাশাতেই সাংবাদিকতা পেশায় কাটলো দুই যুগ। 

 

 

(পর্ব-২)

সত্য উদঘাটনে জীবন বাজি রেখে কাজ করলেও নিজেদের জীবনের অভ্যন্তরীণ সত্যটা প্রকাশ্যে আনতে পারে না মফস্বল সাংবাদিকরা। অপ্রিয় এই সত্যগুলো হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়, গুমড়ে কাঁদে। তবুও বুকে পাথরচাপা দিয়ে রাখতে হয়।

 

 

 

বাংলাদেশের অনেক মানুষই এমনকি জাতীয় গণমাধ্যমের কর্তাব্যক্তিরাও মফস্বল সাংবাদিকদের অনেকটা তাচ্ছিল্যের চোখে দেখেন। কেউ কেউ বলেন, মফস্বলে যারা কাজ করেন তারা সাংবাদিক নয়, সংবাদদাতা মাত্র। কিন্তু ভেবে দেখেন, যেখানে রাজধানীতে কর্মরত সাংবাদিকদের বিট ভাগ করে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী, সচিবালয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, আদালত, ক্রীড়া, বিনোদন ইত্যাদি প্রত্যেক বিটে এক বা একাধিক সাংবাদিক কাজ করেন। জানেন কি? একটি জাতীয় গণমাধ্যমের জেলায় কর্মরত প্রতিনিধিকে সবগুলো বিটে একাই কাজ করতে হয়? 

 

 

 

ধরুণ একটি জেলায় বড় ধরণের সড়ক দূর্ঘটনা ঘটলো, একই সময়ে একটি হত্যাকান্ড, আদালতে একটি আলোচিত মামলার রায় ঘোষণাও হলো-আবার ওইদিনই সরকারের একজন মন্ত্রীর কর্মসূচিও রয়েছে। জেলার সাংবাদিককে সব সংবাদ একাই কাভার করতে হবে। পাশাপাশি প্রিন্ট পত্রিকার প্রতিনিধি হলে সংবাদের পাশাপাশি সরকারি বিজ্ঞাপণের জন্য তাকেই দৌঁড়াতে হয়। 

 

 

 

২০১৯ জুলাই মাসে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় একটি বিয়ের মাইক্রোবাসের ১৬ জন নিহত হয়। ওই রোমহর্ষক ঘটনায় জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের চোখে দু-তিন রাত কোন ঘুম ছিল না। দূর্ঘটনার আদ্যপান্ত নিয়ে সংবাদের পাশাপাশি মানবিক স্টোরী তৈরি করছিলেন সাংবাদিকরা। নিজের মানবিক ভাবনার পাশাপাশি অফিসগুলোর প্রতিযোগীতামূলক এ্যাসাইনমেন্ট কাভার করতে হচ্ছিল। অথচ এই ঘটনা যদি রাজধানীতে হতো, তাহলে একটি মিডিয়ার একাধিক রিপোর্টার, ক্যামেরাপার্সন কাজ করতেন। জেলার সাংবাদিকদের কাজের ব্যাপারে এমন অজস্র উদাহরণ দেওয়া যাবে। আমি এখনও রাত তিনটার সময় ঘটনার তথ্য পেলে ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠি, তথ্য সংগ্রহ করে অফিসে নিউজ পাঠিয়ে দেই। গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে আবার ভোরবেলায় কোন ঘটনা ঘটলে লাফিয়ে দৌঁড়াতে হয়। 

 

 

 

কিন্তু আমাদের সেই কাজের মূল্যায়ন কতটা? একটি জাতীয় গণমাধ্যমের জেলা প্রতিনিধির আর্থিক নিরাপত্তা কতটুকো? সে বিষয়ে বাইরের কারও জানা নেই। থাকবে কি করে এসব বিষয় নিয়ে চাকরি হারানোর ভয়ে আমরা নিজেরাই তো সোচ্চার নই। মুখ ফুটে কাউকে বলতে পারি না, অফিস আমাদের কতটা পারিশ্রমিক দেয়। তারপরও কোনদিন কোন মফস্বল সাংবাদিককে বেতনের জন্য আন্দোলন করেনি। 

 

 

 

বর্তমান জেলা শহরে ছোট একটি পরিবার নিয়ে থাকতে গেলে বাসা ভাড়া, সন্তানাদির পড়াশোনা, চিকিৎসা ব্যয় সব মিলিয়ে মাসে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার প্রয়োজন। 

 

 

 

কিন্তু একজন জেলা পর্যায়ের কর্মরত শীর্ষ গণমাধ্যমের অধিকাংশ সাংবাদিক চাহিদার এক চতুর্থাংশও পায় না। আর দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেনীর গণমাধ্যমগুলো তো প্রতিনিধিকে কোন প্রকার সম্মানীই দেয় না। বিশ্বের কোন রাষ্ট্রে মফস্বল সাংবাদিকরা এতটা উপেক্ষিত কিনা আমার জানা নেই। 

 

 

 

২০১৭ সালের মার্চ মাসে জার্মানীর জনপ্রিয় একটি গণমাধ্যমের বাংলা বিভাগের চাহিদামতো সিরাজগঞ্জের নারী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে একটি স্টোরী পাঠিয়েছিলাম। একদিন পরিশ্রম করে নারী মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলে রিপোর্টটি তৈরি করে পাঠিয়ে দিলাম। এক মাসের মধ্যে ১৩৫ ইউরো বিল আমার ব্যাংক একাউন্টে পাঠিয়ে দিলেন তারা। 

 

 

একজন অতিথি রিপোর্টারকে একটি রিপোর্টের জন্য যদি এত টাকা পারিশ্রমিক দেয়, তাহলে নিয়মিত রিপোর্টাররা কত বেতন পায়! প্রশ্ন আমার সেখানেই। অথচ বাংলাদেশের স্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকরা কত বেতন/সম্মানী পান-সেটা বলাই বাহুল্য।

 

 

(পর্ব-৩)

প্রসারিত তথ্য প্রযুক্তি শহর ছাড়িয়ে গ্রাম, দূর্গম চরাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। সব শ্রেণীর মানুষই এখন ইন্টারনেট, ওয়াইফাই, হোয়াটসএপ, ফেসবুক, ইনস্ট্রোগ্রাম, ইমো ইত্যাদি প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে পরিচিত। দেশের মানুষ এখন ডিজিটালাইজসড হয়ে পড়েছে। আর সবার আগে প্রযুক্তিনির্ভর হয়েছে কিন্তু গণমাধ্যম। এখন আর কাগজের পাতায় সংবাদ লিখে পত্রিকা অফিসে ডাকযোগে পাঠাতে হয় না, করতে হয় না ফ্যাক্সও। আজকের সংবাদ দুদিন পরে পাঠকের কাছে পৌঁছে না। সকল সাংবাদিকের হাতে ল্যাপটপ, ট্যাব এবং মোবাইল। ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই মোবাইলে লিখে সেটা তাৎক্ষণিক অফিসে প্রেরণ করছেন সাংবাদিকরা। তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর গণমাধ্যমের কল্যাণে ঘটনার এক ঘণ্টার মধ্যেই সংবাদটি মানুষের কাছে চলে যাচ্ছে। মিডিয়ার কল্যাণে গ্রাম থেকে শহর কোন সংবাদ থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে না পাঠক ও দর্শক।

 

 

 

দেড় দশক ধরে সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় একের পর এক মিডিয়ার অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান গণমাধ্যমের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধির সংখ্যাও বেড়েই চলেছে। মাত্র দুই দশকের ব্যবধানে সংবাদকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে অন্তত ১০/১২ গুণ। 

 

 

 

আজকের দিনে যে কোন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের ভীড়ে আয়োজকদের হিমশিম খেতে হয়। সংবাদ সম্মেলনের টেবিলে টিভি চ্যানেল, আইপি টিভি, ইউটিউব চ্যানেল এবং পত্রিকাগুলোর মাল্টিমিডিয়ার লোগোর স্তুপ জমা হয়। জনসভা মঞ্চের সামনে ক্যামেরা নিয়ে সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে থাকা ভিডিও জার্নালিস্টের ভীড়ে বক্তৃতা দেওয়া অতিথির মুখটা দেখতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয় দর্শকেরা। একটি ছোট অনুষ্ঠানে এত এত সাংবাদিকের ভীড়ে ত্যক্ত-বিরক্ত সাধারণ মানুষও। 

 

 

 

প্রশ্ন হলো, জাতীয় গণমাধ্যমগুলো জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে তাদের হাতে কার্ড এবং লোগো ধরিয়ে দিচ্ছেন। অর্থাৎ একজন তরুণকে পুরোপুরি সাংবাদিকতা পেশায় প্রবেশ করানো হচ্ছে, কিন্তু মিডিয়া মালিকেরা তার পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা কতটুকো নিশ্চিত করছে? 

 

 

 

আমার জানামতে প্রথম শ্রেণীর কোন কোন গণমাধ্যম জেলা প্রতিনিধিদের কিছু বেতনে নিয়োগ দিচ্ছে। আবার কোন কোন গণমাধ্যম বেতন নয়, মাসে কিছু টাকা সম্মানী হিসেবে ধরিয়ে দিচ্ছে। যার পরিমাণ উল্লেখ করার মতো নয়। আর দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির গণমাধ্যম বেতন/সম্মানী দেওয়া তো দূরের কথা উল্টো প্রতিনিধিদের কাছে নেওয়ার চেষ্টা করে। সামান্য বেতন, নামমাত্র সম্মানি অথবা বেতনহীন এসব মিডিয়াকর্মীদের জীবন কিভাবে চলছে? প্রশ্নটা অনেকেরই। 

 

 

 

আর্থিক নিরাপত্তাহীন মফস্বল সাংবাদিকদের মানবেতর জীবনযাপনের গল্পটা কখনোই প্রকাশ্যে আসে না। পেটে ভাত না থাকলেও অফিসের এ্যাসাইনমেন্ট কাভার করতে ঠিকই যেতে হয়। দ্রব্যমূল্যের এই বাজারে নিভু নিভু প্রদীপের মতো অনেককে সংসার চালাতে হয়। গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য তাদের সরকারি-বেসরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়। 

 

 

 

অনেকে সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি অন্য ব্যবসার ওপরও নির্ভরশীল, অনেকেরই পারিবারিক সম্পদ রয়েছে কিংবা বাবা-ভাইয়ের বড় অংকের রোজগার রয়েছে। আর যাদের এসবের কোনটাই নেই, তাদেরকে নিউজের পাশাপাশি অফিসে অফিসে বিজ্ঞাপণের জন্য ছুটতে হচ্ছে। আর এত মিডিয়া! বিজ্ঞাপণ দিতেও সরকারি সংস্থাগুলো হিমশিম খাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রভাবশালী সাংবাদিকরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিজ্ঞাপণ বাগিয়ে নিচ্ছেন। এখানে মার খাচ্ছে দূর্বল অথচ প্রথিতযশা সাংবাদিক। ওই শ্রেণীর সাংবাদিকদের আয়ের পথ আরও সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। 

 

 

 

এদিকে গণমাধ্যম বাড়লেও মফস্বলের মিডিয়াকর্মীদের জীবনমান ক্রমশই কমছে। নানা কারণে সাধারণ মানুষের কাছে সাংবাদিকদের গ্রহণযোগ্যতাও ক্রমান্বয়ে কমছে। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের অংশ হিসেবে যে মর্যাদা সাংবাদিকদের ছিল-গত দেড় দশকে সেটা তলানিতে নেমে এসেছে। 

 

 

 

আমি মনে করি নিম্নলিখিত কারণে মফস্বল সাংবাদিকতা মর্যাদাহীন হয়ে পড়ছে।

১. ছোট রাষ্ট্রে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত গণমাধ্যমের অনুমোদন।
২. এসব গণমাধ্যম থেকে বেতনহীন বা নামমাত্র সম্মানিতে জেলা-উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ।
৩. নিয়ন্ত্রণহীনভাবে শত শত অনুমোদনহীন ভুইফোঁড় গণমাধ্যমের আবির্ভাব এবং এসব গণমাধ্যমেও জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ।
৪. উপরের তিনটি কারণে ফৌজদারি অপরাধী, প্রতারকচক্র, মাদকাসক্ত, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, অর্ধ-শিক্ষিত, অল্প শিক্ষিত ব্যক্তিদের (অনেকে আছে নিজের নাম সঠিকভাবে লিখতে পারে না) সাংবাদিকতায় আসার সহজলভ্যতা।

 

 

বাংলাদেশের মতো একটি ছোট্ট রাষ্ট্রে ৫০টি টেলিভিশন, ১৫টি আইপি টিভির অনুমোদন রয়েছে। এছাড়া অনুমোদনহীন রয়েছে অসংখ্য আইপিটিভি। একটি জেলায় ৫০ জন স্যাটেলাইট টিভি, ১৫ জন আইপি টিভি প্রতিনিধি রয়েছে। আবার কোন কোন টেলিভিশনের উপজেলা পর্যায়েও প্রতিনিধি রয়েছে। আর প্রিন্ট এবং অনলাইন পত্রিকার জেলা উপজেলা প্রতিনিধি তো রয়েছেই। 

 

 

 

সব মিলিয়ে একটি জেলা সদরে কমপক্ষে তিনশো সাংবাদিকের সৃষ্টি হয়েছে-এক যুগ আগেও যার সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক ছিল না। আর প্রতিটি উপজেলা, থানা পর্যায়েও সাংবাদিকের সংখ্যা কম নয়। এদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মূলধারার সাংবাদিক থাকলেও বেশিরভাগই নামধারী। আর নামধারীরাই তৃণমূলে ছড়িয়ে দিচ্ছে অপ সাংবাদিকতা। 

 

 

(পর্ব-৪)

অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই অপসাংবাদিকতা। মফস্বলে যার ছোঁয়া লেগেছে মারাত্বকভাবে। হাতে গোনা কয়েকজন দক্ষতার ও মেধা খাটিয়ে সংবাদ লিখলেও মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অসংখ্য সাংবাদিক। মেধা ও শ্রম দিয়ে কোন মুলধারার সাংবাদিক একটা সংবাদ লিখে তাঁর গণমাধ্যমে আপলোড হওয়ার মুহুর্তেই কপি-পেষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দাড়ি, কমা, সেমিকোলনও পরিবর্তণ করা হয় না।

 

 

মফস্বলে এমনও সাংবাদিক আছেন, তাকে কখনোই কোনদিনও সংবাদ লিখতে হয় নাই। অথচ মোটর সাইকেলের সামনে প্রেস স্টিকার লাগিয়ে জেলার এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। ওই সাংবাদিককে যদি জিজ্ঞেস করা যায়, আজকে আপনার জেলার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কি? বলতে পারবে না। 

 

 

সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, অন্য সম্মানজনক পেশা ছেড়েও সাংবাদিকতায় আসছে অনেক যুবক। অপরাধচক্রের সাথে জড়িতরা পুলিশী হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হচ্ছে। আবার কেউ কেউ রয়েছে যার কোন কাজকর্ম বা চাকরি করার যোগ্যতা নেই-শেষ সম্বল সাংবাদিকতা। অবশ্য তারা লিখতে জানুক বা না জানুক অফিসগুলো কিছু টাকা নিয়ে একটি কার্ড ধরিয়ে দিয়ে মাঠে ছেড়ে দিচ্ছে। নেই কোন বেতন, নেই কোন সুযোগ সুবিধা। বাধ্য হয়ে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়তে হচ্ছে এদেরকে। 

 

 

এই শ্রেণীর অপ সাংবাদিক যারা এক অক্ষর না লিখেও সাংবাদিক পরিচয়ে নিয়মিত চাঁদাবাজি করে চলছেন। আপনি সরকারি অফিসগুলোতে গেলেই দেখতে পারবেন এমন সংবাদিকের আনাগোনা। 

 

 

ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রতিদিনই এদের ভীড় দেখা যায়। এদের মতো নামধারী সাংবাদিকের কারণে অতিষ্ঠ অফিসগুলোতে সাংবাদিক শব্দটার বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছে। যে কারণে মর্যাদা হারাচ্ছে এ পেশাটি।

 

 

সব মিলিয়ে অবাধ তথ্যপ্রবাহের এই যুগে পেশাদারিত্ব সাংবাদিকতায় চরম দুর্দিন চলছে। গণমাধ্যম বাড়লো, সাংবাদিকও বাড়লো। কিন্তু সাংবাদিকতার মান ও মফস্বল সাংবাদিকের জীবনমানের উন্নয়ন কতটা হলো এ প্রশ্নের জবাব এখনো মিলছে না। 

 

 

লেখক: ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম ও দৈনিক কালবেলা। সম্পাদক ও প্রকাশ, জনতার কণ্ঠ.কম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক প্রতিদিনের দৃশ্যপট।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com