
ইসলাম ডেস্ক। দৃশ্যপট
ইসলামি শরিয়তে কোরবানি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। প্রতি বছর জিলহজ মাসে সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু জবেহ করে থাকেন। তবে অনেকের মনেই একটি সাধারণ প্রশ্ন জাগে, যারা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন, অর্থাৎ আমাদের মৃত আত্মীয়-স্বজন বা পিতা-মাতার পক্ষ থেকে কি কোরবানি দেওয়া সম্ভব? বা দিলে তার সওয়াব কি তারা পাবেন?
ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করা কেবল জায়েজই নয়, বরং এটি একটি সওয়াবের কাজ। যেভাবে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ পালন করা যায় কিংবা দান-সদকা করা যায়, ঠিক তেমনিভাবে তাদের নামে কোরবানি করাও ইসলামি শরিয়তে স্বীকৃত।
বিশিষ্ট আলেম শেখ বিনবাজ (রহ.) এবং সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটির (লাজনা দায়েমাহ) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মুসলিম উম্মাহর আলেমগণ মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করার বৈধতার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। এটিকে মৃত ব্যক্তির জন্য একটি উত্তম ‘সদকা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
রাজধানীর জামিয়া ইসলামিয়া বায়তুস সালামের (মিরপুর-১২) সিনিয়র মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী কালবেলাকে বলেন, মৃতের পক্ষ থেকে কোরবানি করা জায়েজ। মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত না করে থাকেন, তবে সেটি নফল কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে। কোরবানির স্বাভাবিক গোশতের মতো তা নিজেরাও খেতে পারবে এবং আত্মীয়-স্বজনকেও দিতে পারবে।
কোরবানি কেন ওয়াজিব?
কিন্তু মৃত ব্যক্তি কোরবানির ওসিয়ত করে থাকলে এবং ওসিয়ত পালনার্থে ওয়ারিশগণ মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে কোরবানি আদায় করলে এর গোশত নিজেরা খেতে পারবে না। গরিব-মিসকিনদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে। কিন্তু ওয়ারিশ যদি নিজের সম্পদ দিয়ে মৃত ব্যক্তির ওসিয়ত পালনার্থে কোরবানি করে, তাহলে সেই পশুর গোশত নিজে খেতে পারবে এবং অন্যদেরকেও খাওয়াতে পারবে। (মুসনাদে আহমাদ: ১/১০৭, হাদিস ৮৪৫, ইলাউস সুনান: ১৭/২৬৮, রদ্দুল মুহতার: ৬/৩২৬, কাজিখান: ৩/৩৫২
মুফতি আবদুর রহমান বলেন, মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদব বা নিয়ম হলো, এই কোরবানির পশুটি সাধারণ কোরবানির মতোই বাড়িতে বা নির্ধারিত স্থানে জবেহ করতে হবে। অনেক সময় অজ্ঞতাবশত অনেকে কবরের পাশে গিয়ে পশু জবেহ করার কথা ভাবেন, যা ইসলামি শরিয়ত সমর্থন করে না। উৎস অনুসারে, মৃত ব্যক্তির জন্য কোরবানি হবে বাড়িতে, কবরের কাছে নয়।
হাদিসের আলোকচ্ছটা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিসে বলা হয়েছে, ‘মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার তিনটি আমল ব্যতীত সব আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। আমল তিনটি হলো, সদকায়ে জারিয়া, ইলম (যা দ্বারা উপকার হয়) এবং নেক সন্তান। (মুসলিম : ৪০৭৭) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করা মূলত এই সদকা বা নেক আমলেরই অন্তর্ভুক্ত, যা তাদের কবরে সওয়াব পৌঁছাতে সাহায্য করে। সূত্রঃ দৈনিক কালবেলা।