
গাইবান্ধার রহমান শেখ একটি বিস্কুট ও পাউরুটি বেকারির বিক্রয় প্রতিনিধি। সারাদিন মোটরসাইকেল যোগে দোকানে দোকানে ঘুরে বিস্কুট ও পাউরুটির অর্ডার নেন। প্রতিদিন তার ৫ থেকে ৬ লিটার পেট্রোল দরকার হয়। কিন্তু তিনি ৫০০ টাকার বেশি পেট্রোল নিতে পারছেন না।
রহমান শেখ বললেন, জেলা শহরের পেট্রোল পাম্পগুলোতে রেশনিং পদ্ধতিতে পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছে। ৫০০ টাকার বেশি পেট্রোল নিতে পারছি না। ৫০০ টাকার পেট্রোল দিয়ে কতক্ষণ চলে?
যেভাবে সংকটের কথা শুনছি, কয়েকদিন পর তো পেট্রোলই পাওয়া যাবে না। তখন কীভাবে চাকরি রক্ষা করব?
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে গাইবান্ধা শহরের পলাশবাড়ী সড়কের আর রহমান ফিলিং স্টেশন নামের একটি পাম্পে পেট্রোল নিতে এসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
একই পাম্পে আসা মোটরসাইকেল চালক সাদুল্লাপুর উপজেলার রঞ্জু মিয়া বলেন, অনেকের মোটরসাইকেলে পেট্রোল আছে। তবুও সংকটের আশঙ্কায় তারা মোটরসাইকেলের ট্যাংকি ভরে নিতে চাচ্ছেন। মজুতের চেয়ে সংকটের আশঙ্কাই মানুষের মধ্যে বেশি কাজ করছে।
হঠাৎ করে জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। তেল না থাকায় গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালে মেসার্স রহমান ফিলিং স্টেশনে সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এখানে মোটরসাইকেল চালকরা এসে ঘুরে যাচ্ছেন।
পলাশবাড়ি থেকে আসা আর রহমান পেট্রোল পাম্পের দুই ব্যবসায়ী লম্বা লাইনের ভয়ে গ্যারেজ থেকে ট্যাংকি খুলে তেল নেওয়ার চেষ্টা চালাতে দেখা গিয়েছে। গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালে মেসার্স রহমান ফিলিং স্টেশনে সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করায় তারা আর তেল পাননি।
গাইবান্ধার আর রহমান এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে এসে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন শামসুজ্জোহা নামের এক ব্যক্তি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পলাশবাড়ী সড়কের কাদির অ্যান্ড সন্স এর ব্যবস্থাপক রোকন মিয়া বলেন, পাম্পে পেট্রোলের কোনো সংকট নেই। ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে আমরা প্রতিজনের কাছে ৫০০ টাকার পেট্রোল বিক্রি করছি।
গাইবান্ধা শহরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি। পেট্রোলের আশায় অনেকেই এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরছেন। যেসব পাম্পে পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
মোটরসাইকেল চালকরা অভিযোগ করেন, চাহিদা মতো পেট্রোল পাচ্ছেন না। কোথাও কোথাও পেট্রোল শেষ হয়ে যাওয়ায় ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
ফুলছড়ি উপজেলা কঞ্চিপাড়া গ্রামের হাসান রহমান বলেন, মোটরসাইকেলের পেট্রোল নিতে এসেছেন। দুটি স্টেশনে ঘুরে তিনি পেট্রোল পান নাই। তবে মেসার্স রহমান ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের দাবি, উত্তরবঙ্গের জ্বালানি তেলের সরবরাহের প্রধান কেন্দ্র সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি অয়েল ডিপোতে গাড়ি পাঠিয়েও কোনো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ডিপো থেকে তেল না আনতে পারলো মানুষকে দেবো কীভাবে।