
শ্যামল হালদার,রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সোনারাম পূর্বপাড়া গ্রামে নবম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ফাহিমা খাতুন (১৭) নামের ওই শিক্ষার্থী বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বকাঝকা, মানসিক চাপ কিংবা সম্ভাব্য নির্যাতন—বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফাহিমা স্থানীয় চান্দাইকোনা দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে পড়াশোনা নিয়ে তার মা বকাঝকা করেন। পরিবারের দাবি, ওই ঘটনার পর অভিমান করে ফাহিমা নিজ কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং পরবর্তীতে ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের ধর্নার সঙ্গে গলায় ফাঁস নেয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) মৃতার বাবা মো. ওমর ফারুক রায়গঞ্জ থানায় একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা দায়ের করেন। ইউডি নং ১১ (১৬/০৪/২৬) মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় তিনি ছোট মেয়ের ওষুধ কিনতে স্থানীয় বাজারে ছিলেন। পরে খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ফিরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ‘অভিমানজনিত আত্মহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্ন মতামত রয়েছে। কয়েকজন প্রতিবেশীর ধারণা, মেয়েটি পড়াশোনা ও পারিবারিক চাপের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মানিক বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।”
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, “ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।”