
পঞ্চগড়-১ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ মজিদকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ডাদেশও দেওয়া হয়।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বিচারক মো. মিনহাজুর রহমান এ জরিমানা করেন।
এর আগে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়-১ আসনের শাপলা কলি প্রতীকের নির্বাচনী এজেন্ট মো. নাসির উদ্দীন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় এক উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় এম এ মজিদ ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ধানের শীষের বাইরে ভোট দিলে খুঁজে খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগ মতে, এ বক্তব্যে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুমকিমূলক বক্তব্যের কারণে এলাকায় আক্রমণ ও সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশের পরিপন্থি।
এদিকে, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ, লিখিত জবাব ও দাখিলকৃত অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা করে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি অভিযোগটি আমলে নেয়। এতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ লঙ্ঘনের প্রাথমিক উপাদান পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হয়।
শুনানি শেষে আদালত আদেশে বলেন, দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮ এর ২২ নম্বর অধ্যায়ের বিধান অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার পরিচালনার মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এম এ মজিদকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ-৭৭ (৩) (খ) অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালত আরও আদেশ দেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জরিমানার অর্থ বিধি মোতাবেক সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট রশিদ আদালতে দাখিল করতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আইনজীবী শাকিল আরাফাত শুভ বলেন, নির্বাচনের সময় ভোটারদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আদালতের এ সিদ্ধান্ত সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।