
আমিনুর রহমান,ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার প্রধান নদী দুধকুমারের পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদী অববাহিকার চর ও ডুবোচরে পানি ঢুকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েকশ পরিবার। রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৬টায় দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ২৯.৭৬ মিটার, যা বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা বেড়ে ২৯.৮৩ মিটারে পৌঁছায়। ফলে দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুকনো খাবার ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে।
পানি বৃদ্ধির ফলে নদীতীরবর্তী নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় সেখানকার বাসিন্দারা পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ।
দুধকুমার নদীর অববাহিকার তিলাই ইউনিয়নের দক্ষিণ তিলাই ও দক্ষিণ ছাট গোপালপুর গ্রামের শতাধিক বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। এছাড়া পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ছিট পাইকেরছড়া ও পাইকডাঙ্গা, সোনাহাট ইউনিয়নের চর বলদিয়া, চর শতিপুরী, চর-ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর এবং আন্ধারিঝাড় ইউনিয়নের চর বাড়ুইটারী ও চর ধাউরারখুটিসহ বেশ কয়েকটি চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
দুধকুমার নদীপাড়ের বাসিন্দা হাসেম আলী, ফরিদুল, খোকন ও আব্দুল জলিল জানান, তাদের বাড়িতে পানি উঠেছে। গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিয়ে তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। পাশাপাশি নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক জানান, পাইকডাঙ্গা ও ছিট পাইকেরছড়া গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
তিলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান জানান, তাঁর ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সোমবার পর্যন্ত তারা কোনো ত্রাণ বরাদ্দ পাননি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, সোমবার সকাল ৯টায় দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় জেলার নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ জানান, বন্যা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখতে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শুকনো খাবার ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।