
ন্যাশনাল ডেস্ক
চট্টগ্রাম মহানগরীর দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘জলাবদ্ধতা’ নিরসন ও বছরজুড়ে খাল ও নালা সচল রাখতে গঠিত ১৯ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি মাঠে নেমেছে। গত ৩০ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই সভা এবং মাঠ পর্যায়ে তদারকি শুরু করেছেন কমিটির সদস্যরা। সমন্বয়ের অভাব দূর করতে গঠিত এই কমিটি ইতোমধ্যে কর্ম পরিকল্পনাও নির্ধারণ করেছে৷ পাশাপাশি নগরীর ৫০০টির বেশি নালা ও ২৫টির বেশি খাল পরিষ্কারের বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
কমিটিতে যারা আছেন
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। আর সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার, ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিডিএর প্রকল্প পরিচালক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ কমিশনারের (ট্রাফিক) প্রতিনিধি।
কমিটির উল্লেখযোগ্য অন্য সদস্যরা হলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক, চসিকের প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা। এছাড়া বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে চসিকের খাল ও জলাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞ শাহরিয়ার খালেদকে।
সড়ক দুর্ঘটনায় ৭২ পরিবারে ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা সহায়তা বিআরটিএ’র
কর্মপরিকল্পনা ও মাঠ সফর
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৩০ এপ্রিল প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই প্রথম সভা সম্পন্ন করেছে কমিটি। সভায় বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে একটি জরুরি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা নিয়মিত নগরীর জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করছেন এবং পানি নিষ্কাশনে বিদ্যমান বাধাগুলো সরাবেন বলে আশ্বস্ত করছেন।
চসিকের দেওয়া তথ্যমতে, নগরীর পানি চলাচলের পথ নির্বিঘ্ন করতে ৫০০টিরও বেশি ছোট-বড় নালা এবং ২৫টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ খাল থেকে পলি ও আবর্জনা অপসারণের কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
কমিটির কার্যপরিধি
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই কমিটির মূল কার্যপরিধি হলো, নগরীর সকল খাল ও পানি নিষ্কাশন নালা সারা বছর সচল রাখাসহ সেবা সংস্থাগুলোর উন্নয়ন কাজের সমন্বয় করা, জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং চলমান কাজগুলোর তদারকি করা, নিয়মিত বিরতিতে সভা আহ্বান করে উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা, জনস্বার্থে যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে সরকারকে সরাসরি সুপারিশ প্রদান। প্রয়োজনে কমিটি যেকোনো দপ্তরের কর্মকর্তাকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।
কেন এই সমন্বয় কমিটি
বিগত কয়েক বছরে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে তার সুফল পাচ্ছিল না নগরবাসী। সিডিএ’র মেগা প্রকল্পের কাজ চলাকালীন নালা ও খালের বাঁধ অপসারণ বা রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রায়ই চসিক ও সিডিএ’র মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেখা যেত। সর্বশেষ মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি উঠে যায়। জলাবদ্ধতার এই চিত্র নিয়ে আলোচনা হয় সংসদেও। পরবর্তীতে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে চট্টগ্রাম আসেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তখন প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও কমিটির সদস্য সচিব মো. আশরাফুল আমিন কালবেলাকে বলেন, উচ্চ পর্যায়ের এই কমিটি গঠনের পরপরই একটা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা কোনো অজুহাত শুনতে চাই না। সব সংস্থা এখন এক টেবিলে। বর্ষার আগেই নালা-খাল সচল করে নগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। সূত্রঃ কালবেলা।