
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বরে নির্মাণাধীন দেশের অন্যতম আধুনিক ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জে আগামী বছরের শুরুতে যান চলাচল চালুর পরিকল্পনা নিয়ে নির্মাণকাজের গতি বাড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ইন্টারচেঞ্জটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে। এমনটাই জানিয়েছেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক সরফরাজ হোসাইন।
ঢাকা, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার যান চলাচল নির্বিঘ্ন ও গতিশীল করতে নির্মাণ করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের এই আধুনিক ইন্টারচেঞ্জ। প্রকল্পটি চালু হলে হাটিকুমরুল গোলচত্বরকেন্দ্রিক যানজট কমার পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগের একটি কেন্দ্র। এ পথ দিয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার যানবাহন চলাচল করে। এসব যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ২০২২ সালে শুরু হয় হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণকাজ।
প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি যান চলাচলের জন্য চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে আগামী বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এটি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে প্রকল্পের বালু ভরাট, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, এসএমবিডি ব্রিজ ও সার্ভিস এরিয়ার বড় অংশের কাজ শেষ হয়েছে। মূল ইন্টারচেঞ্জ ও র্যাম্পের পাইল, পাইল ক্যাপ, ডায়াফ্রাম স্টেম এবং গার্ডার নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে মূল অবকাঠামোর বিভিন্ন অংশ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত দুই শিফটে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা।
প্রায় ৭৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে এই ইন্টারচেঞ্জ। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ব্রিজ করপোরেশন। দেশের সড়ক অবকাঠামোয় প্রথমবারের মতো এই প্রকল্পে অত্যাধুনিক ‘ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম’ (আইটিএস) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহন চলাচল ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে যাতায়াতের সময় ও পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি সড়কে যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারচেঞ্জটি চালু হলে এই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ ও গতিশীল হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
সাসেক-২-এর হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক সরফরাজ হোসাইন বলেন, আগামী বছরের শুরুতে ইন্টারচেঞ্জটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য দিন-রাত দুই শিফটে কাজ চলছে। প্রকল্পটি চালু হলে দেশের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় আরও গতি আসবে।