1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
৮ পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ২ জন,চান্দাইকোনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের বর্ধিত কমিটিতে জায়গা পেলেন ঈশ্বরগঞ্জের আলমগীর কবির  সুস্থ মানুষকে ‘ক্যানসার রোগী’ সাজিয়ে সরকারি সহায়তা আত্মসাৎ   পাহাড়ধসে নিহতের পরিবারের পাশে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত; ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছাড়ার আহ্বান মান্দায় লিজ নেওয়া বিল গোপনে সাবলিজের অভিযোগ, মানববন্ধনে মৎস্যজীবীরা রাজবাড়ীর কালুখালীতে এইচএসসি পরীক্ষায় অসাধু উপায় অবলম্বন করায় বহিষ্কার ৫ পরীক্ষার্থী ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ জেলার এআই টেকনিশিয়ানদের অবস্থান ধর্মঘট পোরশায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে স্ট্যান্ডিং অর্ডার অন ডিজাস্টার (এসওডি) বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে বিদেশি পিস্তল ও মাদক উদ্ধার ঋণের চাপ এড়াতে অপহরণের নাটক:রহস্য উন্মোচন করল হাটহাজারী থানা পুলিশ

সুস্থ মানুষকে ‘ক্যানসার রোগী’ সাজিয়ে সরকারি সহায়তা আত্মসাৎ  

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৫ Time View

 

ন্যাশনাল ডেস্ক রিপোর্ট 

 

সুস্থ ব্যক্তিদের নামে জটিল রোগের ভুয়া চিকিৎসাপত্র দাখিল করে সরকারের কল্যাণ তহবিলের মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পাবনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে। জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সর্বসাধারণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিকার চেয়ে গত ২০ জুন রাজশাহী বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বেড়া উপজেলার জাতসাখিনী ইউনিয়নের রানীগ্রামের ভুক্তভোগী মো. শাকিল খান। অভিযুক্ত মোবারক হোসেন বেড়া উপজেলার রানীগ্রামের জহির খানের ছেলে। তিনি ২০১৮ সালে পাবনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে যোগদান করেন।

 

 

 

লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে মোবারক তার নিজ গ্রামের প্রতিবেশী শাকিল খানের স্ত্রী লিপি খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ছবি কৌশলে সংগ্রহ করেন। সম্প্রতি শাকিল পারিবারিক প্রয়োজনে তার স্ত্রীর নামে একটি নতুন ব্যাংক হিসাব খুলতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, রূপালী ব্যাংক বেড়ার নগরবাড়ি ঘাট শাখায় তার স্ত্রীর নামে ইতিমধ্যেই একটি হিসাব খোলা রয়েছে। ব্যাংক থেকে স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ওই হিসাবে সরকারি অনুদানের ৫০ হাজার টাকা জমা হয়। পরে ৭ সেপ্টেম্বর রূপালী ব্যাংক পাবনা কর্পোরেট শাখা থেকে সেই টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়ার চেকবইটিও মোবারক নিজের জিম্মায় রেখেছিলেন।

 

 

 

এই ঘটনার পর শাকিল বেড়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার স্ত্রী মোছা. লিপি খাতুনকে কাগজপত্রে ‘ক্যান্সার আক্রান্ত জটিল রোগী’ হিসেবে প্রদর্শন করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিশেষ তহবিল থেকে ওই অনুদান অনুমোদন করানো হয়েছিল। অথচ লিপি খাতুন সম্পূর্ণ সুস্থ এবং তিনি ক্যান্সার বা অন্য কোনো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত নন, কখনো হননি।

 

 

লিপি খাতুনের স্বামী শাকিল খান বলছিলেন, ‘আমি সাধারণ মানুষ, লেখাপড়া জানি না। পরিচিত ও প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে মোবারক আমাকে না জানিয়ে সুস্থ বউকে খাতার কলমে ক্যান্সার রোগী বানিয়ে টাকা তুলেছে। আমরা এই প্রতারণার বিচার চাই।’

 

 

 

 

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, মোবারকের এই জালিয়াতি এটিই প্রথম নয়। ক্যান্সার, কিডনি বা লিভার সিরোসিসের মতো জটিল রোগীদের জন্য বরাদ্দ অনুদানের ন্যূনতম সরকারি চেক পাইয়ে দিতে তিনি অগ্রিম ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন।

 

 

 

 

অন্যদিকে, সুযোগ বুঝে এলাকার দরিদ্র ও অসচেতন সুস্থ মানুষদের ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট তৈরি করে, তাদের অজান্তে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বরাদ্দকৃত টাকা নিজেই তুলে নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

 

 

রানীগ্রামের বাসিন্দা হাসি আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মোবারক আমার আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও চরম প্রতারণা করেছে। আমার দেবর সাব্বির কোনো রোগে আক্রান্ত হয়নি, অথচ ২০২২-২৩ অর্থবছরে তার নামে ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে মোবারক নিজে হজম করেছে। অথচ আমার স্বামী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তার কাগজপত্র নিয়ে মাসের পর মাস মোবারকের পেছনে ঘুরেও আমরা কোনো সরকারি সাহায্য পাইনি।’

 

 

একই গ্রামের কামরুল ইসলামও একই ধরণের অভিযোগ করে জানান, ২০২২ সালে তার ক্যান্সার আক্রান্ত বাবা রেজাউলের জন্য ৫০ হাজার টাকা সরকারি অনুদান মঞ্জুর হয়। অর্থ ছাড় করতে মোবারক অগ্রিম বিশ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করে চেক প্রদান করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, মোবারকদের জালিয়াতির এই সিন্ডিকেট পুরো পাবনা জেলা জুড়ে সক্রিয়। বিভিন্ন এলাকায় তাদের এজেন্ট রয়েছে, যারা অনুদান পাওয়ার যোগ্য বা দরিদ্র মানুষদের খুঁজে বের করে এবং কাজ করিয়ে দেওয়ার নামে বরাদ্দের অর্ধেক টাকা আত্মসাতই এদের কাজ।

 

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অফিস সহায়ক মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমি কোনো অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত নই। কিছু স্থানীয় শত্রু আমার ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করছে।’ -এর বেশি কোনো মন্তব্য না করেই তিনি মোবাইলের সংযোগ কেটে দেন।

 

 

এদিকে, ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৫ জুন রাজশাহী বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বেড়া উপজেলার তৎকালীন (সদ্য বিদায়ী) সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মোতালেব সরকার। প্রতিবেদনে লিপি খাতুনের নামে সরকারি অনুদানের অর্থ উত্তোলনের প্রমাণাদি সংযুক্তি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোবারকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ বারংবার এসেছে বলেও উল্লেখ করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা। তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগকারী নিরক্ষর পরিবার। তার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে রূপালী ব্যাংক, বেড়া, নগরবাড়ী ঘাট শাখায়, অথচ অর্থ উত্তোলন হয়েছে পাবনা কর্পোরেট শাখা থেকে। সার্বিক নথিপত্র যাচাইয়ে অসংগতি পাওয়ায় বিষয়টি বিভাগীয় কার্যালয়ে জানানো হয়েছে।

 

 

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আব্দুল কাদের বলেন, ‘চলতি অর্থ বছরে অনুদানের অর্থ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। অনুদানের অর্থ প্রদানে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও সমাজসেবা অফিসের ঊর্ধ্বতনদের নিয়ে যাচাই কমিটি রয়েছে। ভুয়া কাগজে অনুদানের সুযোগ নেই। টাকা যায় সরাসরি ভাতাভোগীর অ্যাকাউন্টে। আর একজন পিয়ন কিভাবে অনুদান মঞ্জুর করবে!’

 

 

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এটা আপনি পেলেন কী করে! অফিসের যে লোক আপনাকে এটা দিয়েছে আমি তার বারোটা বাজাবো।’

 

 

পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকারি অনুদানের বিষয়ে অভিযোগ এলে, তা অবশ্যই যাচাই করতে হবে। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com