
দৃশ্যপট ডেস্ক
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা পুরোদমে রোপা আমন ধানের চারা রোপণ এবং হাট-বাজারে চারা কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। নিচু বা যেসব জমিতে বীজতলা করা সম্ভব হয়নি, সেখানকার কৃষকরা স্থানীয় হাট-বাজার থেকে চারা কিনে জমিতে রোপণ করছেন।
রায়গঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সলংগায় ধানের চারার হাট জমে উঠেছে। উপজেলার সলংগা থানার সামনের মাঠে শতবছরের পুরনো এই হাটে প্রতিদিন বেচাকেনার ধুম পড়েছে। সম্প্রতি বৃষ্টি হওয়ায় অন্য বছরের তুলনায় এবার রোপা আমন ধানের চারা বেচাকেনা বেশি হচ্ছে। তবে সার ও ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে প্রান্তিক কৃষক এবং ডিজেল চালিত সেচ পাম্প মালিকরা উদ্বিগ্ন। তারা সরকারের কাছে ভর্তুকি দাবি করেছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবছর রোপা আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৯ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চারা লাগানো হয়েছে এবং অবশিষ্ট জমিতে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সেচ মেশিনের সাহায্যে আমন চারা রোপণ করা হবে।
সূত্রমতে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডিজেল ও বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পেগুলো চালু করা হয়েছে । তবে ডিজেল ও সারের দাম বাড়ার কারণে আমন চাষে এবার খরচ অনেকটা বেশি হবে। এ কারণে ডিজেল চালিত পাম্পের মালিকরা ভর্তুকি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, হাটে বিভিন্ন জাতের আমন ধানের চারায় সয়লাব। চাষিরা দর কষাকষি করে চারা কিনছেন। সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যবসায়ীরা চারা কিনে আনেন। সেগুলো উপজেলার চাষিদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করছেন।
হাটে ব্রি ৩৪, ৪৯, ৫২, ৭১, ৭২, ৭৪, ৭৫, ১০৫, ৮৭, বিআর ১১, ২২, ২৩, বিনাধান ৭, ১৭, ২০ এবং স্থানীয় জাত নাজিরশাইল, পাইজাম, বিনাশাইল, স্বর্ণা, কালিজিরা, রনজিত, গাইঞ্জা, জোররোই ও পাটজাগ প্রভৃতি ধানের চারা পাওয়া যায়। হাটে ধানের চারা ভেদে প্রতি আঁটি (মুঠি) চারা ৪-৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
৩০ বছর ধরে সলংগা হাটে চারা ব্যবসা করে আসছেন চারা ব্যবসায়ী আশরাফ আলী। তিনি বিভিন্ন উঁচু এলাকা থেকে মৌসুম অনুযায়ী ধানের চারা কিনে এনে সলংগা হাটে বিক্রি করে থাকেন। ধানের চারা বিক্রি করেই তিনি ছেলে ও মেয়ের লেখাপড়ার খরচসহ পরিবারের চাহিদা মেটাচ্ছেন। আরও চারা ব্যবসায়ীরা হলেন, আবুল কালাম, শফিক, হযরত আলী। বর্তমানে ৮০ মুঠা (১ পণ) চারার গড় মূল্য ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা। স্বর্ণা-৫ জাতের চারা ৪০০-৪৩০ টাকা। চাহিদা ভেদে কোন কোন দিন ৩৯. ৪৯, রনজিত চারা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা পণ বেচা কেনা হয়।
সলংগা হাটের অনেক চারা ব্যবসায়ীরা জানান, ১০০ আঁটি চারা বিক্রি করলে ৮০-১২০ টাকা লাভ থাকে। হাটটি শতবছরের পুরাতন হওয়ায় বেশ পরিচিতি পেয়েছে। রায়গঞ্জ উপজেলা সহ সিরাজগঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলের নিচু এলাকার চাষিরা এখান থেকেই ধানের চারা কিনে থাকেন।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মমিনুল ইসলাম জানান, সলংগা ধানের চারার হাট অনেক পুরাতন এবং জেলার অন্যতম একটি হাট। কেউ কেউ শুধু বিক্রির উদ্দেশ্যে ধানের চারা উৎপাদন করেন। আবার অনেকে নিজের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত চারাগুলো হাটে বিক্রি করেন। যেসব চাষিরা চারা উৎপাদন করতে পারেন না, কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করেন তারাই এ হাটের নিয়মিত ক্রেতা। তিনি মাঝে-মধ্যে হাটে গিয়ে চারাগুলো খালি চোখে পরীক্ষা করে দেখে থাকেন। এটা তিনি দায়িত্বের বাইরে বিবেকবোধ থেকে করে থাকেন।
তিনি আরো জানান, সারের দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষকের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে-এটা স্বাভাবিক। বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পে সরকারি ভর্তুকি রয়েছে। যদি ডিজেল চালিত সেচ পাম্প মালিকদেরও ভর্তুকি দেওয়া হয়, তাহলে কৃষিখাতে দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে না। কৃষকরা খরচ পুষিয়ে নিতে পারবেন।