
শ্যামল হালদার,রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক সিনিয়র নার্স তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ১০টায় উপজেলার ভূইয়াগাঁতী এলাকার মমজান মার্কেটে অবস্থিত রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিনিয়র নার্স সুলতানা রাজিয়া।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, উপজেলার পূর্ব লক্ষ্মীখোলা গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির এক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ‘ধর্ষণের আলামত নষ্ট করার’ অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে। তবে তিনি এ অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে একে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেন।
সুলতানা রাজিয়া জানান, ঘটনার দিন সকাল ৯টা ৫৩ মিনিটে তিনি যথারীতি কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট শিশুটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়নি এবং কোনো চিকিৎসকের কাছেও নেওয়া হয়নি। ফলে আলামত নষ্ট করার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
তিনি বলেন, “একটি সংবেদনশীল ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাচাই-বাছাই ছাড়াই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এতে আমার ব্যক্তি ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে সুলতানা রাজিয়া বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত আছি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিত্তিহীন তথ্যের কারণে আমি ও আমার পরিবার মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তবে এ বিষয়ে অভিযোগকারী পক্ষ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, কোনো ফৌজদারি অভিযোগের ক্ষেত্রে আদালতের রায় বা সরকারি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়। এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের ফলাফলই প্রকৃত সত্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।