1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

যাদের বন্ধু বানাতে বলেছেন মহানবী (সা.)

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩০ Time View

 

ইসলাম ডেস্ক

 

 

 

ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের পক্ষে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনের তাগিদে মানুষকে একে অপরের সঙ্গে চলতে, মিশতে ও সম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়। কিন্তু কার সঙ্গে সেই সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে, সে বিষয়ে ইসলাম সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। বিশেষ করে বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সৎ ও পুণ্যবান মানুষের সাহচর্য গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ উত্তম বন্ধু মানুষকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করে, আর অসৎ বন্ধু ধীরে ধীরে তাকে বিপথগামী করে তোলে। এ কারণেই মহানবী (সা.) বারবার সৎসঙ্গ গ্রহণের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ইমানদাররা, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।’ (সুরা তওবা: ১১৯)

 

 

 

মানুষ দীর্ঘদিন যাদের সঙ্গে চলাফেরা করে, তাদের চিন্তা, আচার-আচরণ ও স্বভাব-চরিত্র অজান্তেই নিজের মধ্যে ধারণ করতে শুরু করে। সঙ্গের এই প্রভাব অনেক সময় এত ধীরে কাজ করে যে মানুষ নিজেই তা টের পায় না। তাই ইসলাম বন্ধুত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ তার বন্ধুর ধর্ম অনুসরণ করে। কাজেই তোমাদের সতর্ক থাকা উচিত যে, তুমি কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছ।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৩৩)

 

 

 

অসৎ সঙ্গ মানুষের নৈতিকতা নষ্ট করার পাশাপাশি একসময় তার ধর্মীয় বিশ্বাসেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কার সাহচর্য গ্রহণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টি বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত সুন্দর একটি উপমা দিয়েছেন। আবু মুসা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সৎসঙ্গী ও অসৎসঙ্গীর উদাহরণ আতর বিক্রেতা ও কর্মকারের হাপরের মতো। আতর বিক্রেতার কাছে গেলে তুমি রেহাই পাবে না। হয় তুমি আতর কিনবে, না হয় আতরের সুঘ্রাণ পাবে। আর কর্মকারের কাছে গেলে তার হাপর হয় তোমার শরীর বা কাপড় পুড়িয়ে দেবে, না হয় তুমি তার দুর্গন্ধ পাবে।’ (সহিহ বোখারি: ১৯৯৫)

 

 

মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শেও সৎ ও ইমানদার মানুষের সাহচর্যের গুরুত্ব বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি মুমিনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আল্লাহভীরু মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন ছাড়া আর কারও সংস্রবে যেয়ো না। আর তোমার খাবার যেন শুধু তাকওয়ার অধিকারী মুমিরাই খায়।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৩২)

 

 

 

 

 

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন ছাড়া অন্য কাউকে সঙ্গী নির্বাচন করবে না।’ (সুনানে তিরমিজি: ২৩৯৫)

 

 

 

 

কোরআনুল কারিমে ইমানদারদের পারস্পরিক সম্পর্ককে বন্ধুত্বের সর্বোত্তম উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃত মুমিন একে অপরকে কল্যাণের পথে আহ্বান করে, অন্যায় থেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্যে উদ্বুদ্ধ করে।

 

 

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর ইমানদার পুরুষ ও ইমানদার একে অপরের বন্ধু। তারা ভালো কথার শিক্ষা দেয়। মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। নামাজ প্রতিষ্ঠিত করে, জাকাত দেয়, আল্লাহ ও রসুলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন-যাপন করে। তাদের ওপর আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী সুকৌশলী।’ (সুরা তওবা: ৭১)

 

 

আখিরাতের সফলতা অর্জনের জন্য বন্ধুত্বের ভিত্তিও হতে হবে ইমান ও তাকওয়া। প্রকৃত বন্ধু সেই, যে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলতে সহায়তা করে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং বিশ্বাসীরা, যারা নামাজ কায়েম করে, জাকাত দেয় ও বিনত হয়।’ (সুরা মায়িদা: ৫৫)

 

 

বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাহ্যিক পরিচয় বা পার্থিব স্বার্থ নয়, বরং মানুষের ঈমান, আমল ও চরিত্রকে গুরুত্ব দিতে হবে। নামাজি, সত্যবাদী, দীনদার ও পরোপকারী মানুষের সাহচর্যই একজন মুসলমানের জন্য সবচেয়ে উপকারী। এ বিষয়ে কোরআন সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তুমি দৃঢ় চিত্ত হয়ে তাদের সঙ্গে অবস্থান করো, যারা সকাল-সন্ধ্যা তাদের প্রতিপালককে আহ্বান করে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের সন্ধানে। পার্থিব জীবনের শোভা ও চাকচিক্য কামনায় তুমি তাদের থেকে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ো না। তুমি তার আনুগত্য করো না যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে উদাসীন করে দিয়েছি, যে নিজের প্রবৃত্তির আনুগত্য করে আর যার কার্যকলাপ হচ্ছে সীমালঙ্ঘনমূলক।’ (সুরা কাহাফ: ২৮)

 

 

সবশেষে বলা যায়, ইসলামে বন্ধুত্ব কেবল পারস্পরিক সম্পর্কের নাম নয়; এটি ঈমান, চরিত্র ও জীবন গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী ইমানদার, সত্যবাদী ও পরোপকারী মানুষকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। এমন বন্ধুত্ব আখিরাতে যেমন মুক্তির কারণ হবে, তেমনি দুনিয়ার জীবনেও উপকার বয়ে আনবে। একই সঙ্গে সৎ, বুদ্ধিমান, মেধাবী, ধৈর্যশীল, চরিত্রবান, ধার্মিক ও পরোপকারী বন্ধু মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও নৈতিক জীবনের জন্যও আশীর্বাদস্বরূপ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com