
মোঃ আজিজুল হাকিম,পার্বতীপুর(দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিষ্টার ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সস্ত্রীক তিন দিনের উত্তরাঞ্চল সফর স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সুধীমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গত ৩০ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই সফরে তিনি উত্তর জনপদের শিল্প, বাণিজ্যিক, ঐতিহাসিক, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সস্ত্রীক পরিদর্শন করেন। সাধারণ জীবনযাপন ও সাদাসিধে পোশাক-আশাক স্থানীয় মানুষের নজর কেড়েছে।
সফরের প্রথম দিন ৩০ আগস্ট ঢাকা থেকে বিমানযোগে তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুরে পৌঁছান। এরপর তিনি প্যারাগন ডেইরি ফার্ম এবং নীলফামারীর ঐতিহাসিক তিস্তা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন করেন।
দ্বিতীয় দিনে রাষ্ট্রদূত দম্পতি পঞ্চগড়ের মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, পঞ্চগড় সদর হাসপাতাল এবং পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের রক মিউজিয়াম ও গ্রিন ফিল্ড টি ফ্যাক্টরি ঘুরে দেখেন। এ দিন তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সফরের তৃতীয় ও শেষ দিন ১ সেপ্টেম্বর তাঁরা ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের হরিণমারী সীমান্তে অবস্থিত মণ্ডুমালা গ্রামের ঐতিহাসিক দেশের সর্ববৃহৎ সূর্যপুরী আমগাছ পরিদর্শন করেন। এরপর তাঁরা দিনাজপুরের প্রাচীন কান্তজিউ মন্দির ও নয়াবাদ মসজিদ পরিদর্শন করেন।
পার্বতীপুরে সেন্ট্রাল লোকোমোটিভ কারখানা পরিদর্শন:
উত্তরাঞ্চল সফরের শেষ পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় সড়কপথে পার্বতীপুরে আসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তিনি দেশের সর্ববৃহৎ কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা (সেলোকা) পরিদর্শন করেন এবং কারখানার বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেলে ব্যবহৃত নিজের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত ৬৬৩৯ সিরিজের ডিজেল চালিত রেল ইঞ্জিন দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে স্মৃতির স্মারক হিসেবে তিনি কারখানা চত্বরের ভিআইপি কর্নারে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে তিনি সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনে চড়ে সৈয়দপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাষ্ট্রদূতের মতো ভিআইপি ব্যক্তিত্বকে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে এভাবে ট্রেনে যাতায়াত করতে দেখে সহযাত্রী ও সাধারণ মানুষ অবাক ও বিমোহিত হন।
উত্তরাঞ্চল সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, “সৌহার্দ্যপূর্ণ এই সফরের মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশা—বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক বিষয়ের উন্নয়নে আগামী দিনেও আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”