
ন্যাশনাল ডেস্ক
পরিবারের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক উপায়ে খাদ্য সংরক্ষণ। প্রতি বছর সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ কেবল অনিরাপদ খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেক সময় খাবার দেখতে বা গন্ধে ঠিক মনে হলেও এতে প্যাথোজেনিক ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। তাই মাছ, মাংস বা টিনজাত খাবার কতদিন এবং কীভাবে সংরক্ষণ করবেন, তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
ফ্রিজারে সংরক্ষণ: মান ও স্বাদের সুরক্ষা
সাধারণত ফ্রিজারে ০° ফারেনহাইট (-১৮° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় খাবার অনির্দিষ্টকাল নিরাপদ থাকে। কারণ এই ঠান্ডায় ক্ষতিকারক অণুজীব নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তবে দীর্ঘদিন ফ্রিজে থাকলে খাবারের গুণগত মান ও স্বাদ নষ্ট হতে পারে।
গরুর মাংস
কোরবানির মাংস সঠিকভাবে সংরক্ষণের ৮টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
কাঁচা গরুর মাংস (স্টেক বা রোস্ট) ৪ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত ফ্রিজারে রাখা যায়। তবে মাংসের কিমা ৩ থেকে ৪ মাসের বেশি রাখা উচিত নয়। রান্না করা মাংসের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ২-৩ মাস।
বিয়ে করার আগে অর্থ সংক্রান্ত ৫ শিক্ষা আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন
মুরগির মাংস
আস্ত মুরগি ১ বছর পর্যন্ত ভালো থাকে। তবে মুরগির বিভিন্ন অংশ (ব্রেস্ট বা থাই) ৯ মাস এবং কিমা বা গিবলেট ৩-৪ মাস পর্যন্ত রাখা নিরাপদ।
সামুদ্রিক মাছ
চর্বিহীন মাছ (যেমন কোরাল বা কড) ৬-৮ মাস রাখা যায়, কিন্তু চর্বিযুক্ত মাছ (যেমন ইলিশ বা স্যামন) মাত্র ২-৩ মাস রাখা ভালো।
নরমাল ফ্রিজে সংরক্ষণের সময়সীমা
ফ্রিজের নরমাল চেম্বারে তাপমাত্রা ৪০° ফারেনহাইট (৪° সেলসিয়াস) রাখা হলে তা ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ধীর করে দেয়। তবে এখানে সময়সীমা ফ্রিজারের তুলনায় অনেক কম।
কাঁচা মাংস ও কিমা: যেকোনো কাঁচা মাংস বা কিমা ১-২ দিনের বেশি নরমাল ফ্রিজে রাখা উচিত নয়।
রান্না করা খাবার: রান্না করা মাংস বা মাছ ৩-৪ দিন পর্যন্ত রাখা যেতে পারে।
মাছ: কাঁচা মাছ বা চিংড়ি মাত্র ১-২ দিন রাখা নিরাপদ।
টিনজাত বা ক্যান ফুড
তালিকায় সাশ্রয়ী এবং দীর্ঘস্থায়ী অপশন হলো টিনজাত খাবার। সাধারণত এগুলো ২ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ভালো থাকে। তবে ক্যান যদি ফোলা থাকে, মরিচা ধরা বা ছিদ্রযুক্ত হয়, তবে সেই খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। ক্যান খোলার পর অবশিষ্টাংশ দ্রুত অন্য পাত্রে নিয়ে ফ্রিজে তুলে রাখুন।
বরফ ছাড়ানোর সঠিক পদ্ধতি
ফ্রিজ থেকে বের করে কক্ষ তাপমাত্রায় রেখে মাংসের বরফ ছাড়ানো একদমই উচিত নয়, এতে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে।
নিরাপদ উপায় হলো:
ফ্রিজের সাধারণ চেম্বারে (নিচের তাকে) রাখা।
লিকপ্রুফ ব্যাগে ভরে ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখা।
মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করা।
কিছু জরুরি টিপস
মাংস ফ্রিজে রাখার সময় এর আসল প্যাকেটের ওপর প্লাস্টিক র্যাপ বা ফয়েল পেপারের একটি বাড়তি স্তর দিন, এতে স্বাদ ভালো থাকে।
মাছ-মাংস থেকে নির্গত তরল যেন অন্য খাবারে না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
মায়োনিজ, ক্রিম সস বা লেটুস দিয়ে তৈরি খাবার ফ্রিজারে সংরক্ষণ করবেন না, কারণ এতে এগুলোর গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়।
সুস্থ থাকতে কেবল টাটকা খাবার কেনাই যথেষ্ট নয়, বরং তা সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ফ্রিজের দরজায় একটি তালিকা রাখুন যাতে ভুলে না যান কোন খাবারটি কতদিন আগে রাখা হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন