
সাব্বির মির্জা তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে অবর্ণনীয় কষ্টের অবসান হতে চলেছে নিঃস্ব ও অসহায় মাহতাব হোসেনের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদপত্রে তাঁর মানবেতর জীবনযাপনের খবর দেখে দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান। সংবাদ প্রকাশের পরপরই তিনি নিজে সরাসরি টিন ও ঘর নির্মাণের সামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছেন মাহতাব হোসেনের আঙিনায়।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মাহতাব হোসেন একটি জরাজীর্ণ ও তীব্র রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে অত্যন্ত কষ্টকর জীবনযাপন করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে ইউএনও নুসরাতের দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেন এবং কালবিলম্ব না করে সরকারি সহায়তার ঢেউ টিন ও নগদ অর্থ নিয়ে মাহতাব হোসেনের বাড়িতে ছুটে যান।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইউএনও নুসরাত জাহান নিজেই মাহতাব হোসেনের হাতে ঘর মেরামতের জন্য টিন ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন এবং দ্রুত ঘরটি বসবাসের উপযোগী করার নির্দেশ দেন।
হঠাৎ ইউএনও-কে টিন নিয়ে নিজের আঙিনায় হাজির হতে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বৃদ্ধ মাহতাব হোসেন। তিনি অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, আমার এই ঘর না থাকার খবর সাংবাদিকরা লেখার পরই আজ সরকারি বড় অফিসার নিজে আমার বাড়িতে টিন নিয়ে এসেছেন। আমি কোনোদিন ভাবিনি এত দ্রুত আমার এই কষ্টের দিন শেষ হবে। যাঁরা আমার খোঁজ নিয়েছেন এবং যিনি (ইউএনও) নুসরাত জাহান নিজে এসে এই ব্যবস্থা করলেন, আল্লায় উনাদের ভালো করুক।
এই তাৎক্ষণিক ও মানবিক উদ্যোগ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদটি দেখার পর আমি আর ঘরে বসে থাকতে পারিনি। একজন মানুষ এমন জরাজীর্ণ অবস্থায় বসবাস করছেন, তা সত্যিই কষ্টদায়ক। সংবাদটি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা তাঁর জন্য আপাতত জরুরি ভিত্তিতে ঢেউ টিন ও ঘর মেরামতের সহায়তার ব্যবস্থা করেছি। ভবিষ্যতে সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় তাঁকে একটি স্থায়ী পাকা ঘর দেওয়ার বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।
টিন হস্তান্তরের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের এমন দ্রুত, স্বতঃস্ফূর্ত ও মানবিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। তারা মনে করছেন, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা এবং প্রশাসনের এমন আন্তরিকতা গ্রামীণ জনপদের অসহায় মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখছে।