
মো: আব্দুর রহীম মিঞা, জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের ভোগান্তি যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। নির্ধারিত সময়ে পর্যাপ্ত বাস না থাকায় অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ছোট ছোট পিকআপ ভ্যান ও মালবাহী যানবাহনে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন। এতে যেমন বাড়ছে ঝুঁকি, তেমনি গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়াও।
সাম্প্রতিক সময়ে ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় দেখা গেছে, ঢাকাগামী বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও বাস না পেয়ে যাত্রীরা বিকল্প হিসেবে পিকআপ গাড়িতে যাতায়াত করছেন। বিশেষ করে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও জরুরি কাজে ঢাকাগামী মানুষদের জন্য এ পরিস্থিতি চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, বাস সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু পিকআপ চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জনপ্রতি ২০০ টাকা করে ভাড়া আদায় করছেন চন্দ্রা পর্যন্ত। এসব পিকআপে যাত্রী পরিবহনের কোনো বৈধ অনুমতি না থাকলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ বাধ্য হয়ে যাতায়াত করছেন।
ভূঞাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যাত্রীরা জানান, সকালে বা দুপুরে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে গিয়ে বাস না পাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। পরে সময় বাঁচাতে এবং জরুরি কাজের কথা চিন্তা করে পিকআপে উঠতে বাধ্য হন তারা।
এক যাত্রী বলেন, “বাসের জন্য প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। কোনো বাস না আসায় শেষ পর্যন্ত ২০০ টাকা ভাড়া দিয়ে পিকআপে চান্দরা পর্যন্ত যাচ্ছি। এরপর সেখান থেকে আবার অন্য পরিবহনে ঢাকায় যেতে হবে।”
যাত্রী পরিবহনে মালবাহী পিকআপ ব্যবহার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব গাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে বেশি।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত পর্যাপ্ত বাস সার্ভিস চালু ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ভূঞাপুর-ঢাকা রুটে যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। যাত্রী পরিবহনে মালবাহী পিকআপ ব্যবহার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব গাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে বেশি।
গত সোমবার সরকারি অফিস খুললেও কর্মস্থলের যাওয়ার মানুষের চাপ কমেনি বরং বেড়েছে। আজ শক্রবার ৫ জুন বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য বাড়ী ত্যাগ করেছেন। এই সময়টা ভূঞাপুর বাসষ্ট্যান্ড গাড়ী পাওয়ায় এই দূর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কোনো কোনো যাত্রী।