
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষার্থীকে বিয়ে ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই নারীকে নিয়ে এক কলেজ শিক্ষকের সঙ্গে বিয়ের পর নিজেকে তার পূর্বের বৈধ স্বামী দাবি করে হাজির হয়েছেন আরেক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘিরে কলেজ ক্যাম্পাস, স্থানীয় এলাকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মনোয়ারুল ইসলাম গত ১৯ জুন একই কলেজের বিএ (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও উল্লাপাড়া উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামের শামছুল হক ভূঁইয়ার মেয়ে স্বর্ণা খাতুনকে বিয়ে করেন। অভিযোগ রয়েছে, কলেজে পড়াশোনার সময় তাদের মধ্যে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা পরে বিয়েতে রূপ নেয়।
তবে বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর নতুন মোড় নেয় ঘটনাটি। উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য মো. মুরাদ হোসেন দাবি করেন, প্রায় দুই বছর আগে স্বর্ণা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল এবং তিনি এখনও তার বৈধ স্বামী। তার অভিযোগ, স্বর্ণাকে কৌশলে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মুরাদ হোসেন বলেন,
“স্বর্ণা আমার স্ত্রী। প্রায় দুই বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়। এখন তাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারছি না। এতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।”
রোববার কলেজের অফিস কক্ষে এসে কান্নাকাটি করলে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি দ্রুত ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়ে যায়।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক মো. মনোয়ারুল ইসলাম সরাসরি মন্তব্য না করে বলেন, “এসব বিষয়ে সামনাসামনি কথা বললে ভালো হয়। পরে কথা বলছি। আমার বড় ভাই আপনার সঙ্গে কথা বলবেন।”
অধ্যাপকের বড় ভাই মো. লিটন দাবি করেন, “স্বর্ণার আগে কোনো বিয়ে হয়নি। নিজেকে স্বামী দাবি করা ব্যক্তি প্রতারণার চেষ্টা করছেন। পারিবারিকভাবেই এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তার দাবির কোনো ভিত্তি নেই।”
ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহেদ আলী বলেন, “মেয়েটি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং প্রাপ্তবয়স্ক। প্রেম করতেই পারে। বিয়ে করেছে কি না, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।”
রায়গঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এলিজা সুলতানা বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।”
এদিকে, ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা স্বর্ণা খাতুনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, মুরাদ হোসেনের দাবিকৃত পূর্ববর্তী বিয়ের কোনো নথিপত্রও তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বৈবাহিক সম্পর্ক এবং পূর্ববর্তী বৈবাহিক দাবিকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।