
ন্যাশনাল ডেস্ক
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা শাখার ১০৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। এ নিয়ে দলটির তৃণমূলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে কমিটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করা এবং রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে সক্রিয় থাকা কয়েকজন নেতাকে মূল্যায়ন করা হয়নি। অন্যদিকে আরেকটি অংশ নতুন কমিটিকে সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ হিসেবে দেখছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আমীরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান লিটনের যৌথ স্বাক্ষরে সম্প্রতি এ আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
কমিটিতে সাবেক সংসদ সদস্য জাকিয়া পারভীন খানম মনিকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে মাসুদুল আলম টিপু, আবুল কালাম আজাদ, আমানুর রশিদ জুয়েল, সুকান্ত চন্দ্র সরকার রঞ্জন, আনিসুর রহমান শিশির, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজন, মজিবুর রহমান এবং ব্যারিস্টার মাহজেরিন মোশাররফ মৌকে। এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য ড. নাদিয়া বিনতে আমিন, কৃষিবিদ মিছবাহুজ্জামান চন্দনসহ ৯৪ জনকে সদস্য রাখা হয়েছে।
কমিটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। জারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম মণ্ডল তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে লেখেন, ‘হঠকারী সিদ্ধান্তের বলি হইলাম’। পোস্টে বহু মন্তব্যে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তাদের অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি অনলাইন গ্রুপেও কমিটির পক্ষে-বিপক্ষে মতামত প্রকাশ করতে দেখা যায়।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক ও আইনি বাস্তবতার কারণে সংগঠনটি বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। এমন পরিস্থিতিতে বড় আকারের আহ্বায়ক কমিটি এবং তা ঘিরে প্রকাশ্য মতভিন্নতা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাদের মতে, তৃণমূলের আপত্তিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হলে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ কমানো সহজ হতে পারে।