
শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহের হাত থেকে বাঁচল দুই কিশোরী। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে একটি বিয়ের আয়োজন বন্ধ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তাঁর নির্দেশে অপর বিয়েটি বন্ধ করেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)। দুটি ঘটনাই ঘটেছে আজ শুক্রবার দুপুরে।
জুড়ানপুর ইউনিয়নে এক স্কুলছাত্রীর বিয়ের আয়োজন চলছিল। কনের বাড়িতে চলে এসেছিল বরপক্ষ। এর মধ্যে সেখানে হাজির হন উপজেলার সহকারী কমিশনার শাহীন আলম। ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে বন্ধ করে দেন বিয়ে। পাশাপাশি কনের ও বরের পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন আলম বলেন, বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিশোরীর বয়স ১৪ বছর হওয়ায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই স্কুলছাত্রী প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগপর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে উভয় পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গ্রামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের বিয়ের আয়োজন করেছিল দুই পরিবার। বেলা একটার দিকে বরপক্ষ বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে চলে আসে। বাল্যবিবাহের আয়োজনের বিষয়টি প্রতিবেশীদের কেউ মুঠোফোনে ইউএনও লাভলী ইয়াসমিনকে অবহিত করেন। ইউএনওর নির্দেশে সহকারী কমিশনার দ্রুত বিয়েবাড়িতে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
এদিকে গ্রাম পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নে এক কিশোরীর বিয়ে হচ্ছে বলে খবর পায় উপজেলা প্রশাসন। সেখানে ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন নিজে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিয়ে বন্ধ করেন। পাশাপাশি মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগপর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে মা–বাবার কাছ থেকে মুচলেকা নেন।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিন বলেন, অভিযানের সময় ওই বাড়িতে ছেলেপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। খবর শুনে বরপক্ষ চলে গেছে বলে জানা যায়। ওই বাড়িতে তেমন কোনো আয়োজনও ছিল না। মেয়েটি এবার এসএসসি পাস করেছে। তার বয়স ১৮ পূর্ণ হয়নি। পরে ছয়জন গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে মা–বাবার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে মেয়েকে তাঁরা দেবেন না।