1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
পোরশায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাঝে সাইকেল, সেলাই মেশিন ও অনুদানের চেক বিতরণ দখল-দূষণে মৃতপ্রায় মগড়া, ৪৮ কোটি টাকায় পুনর্জীবনের উদ্যোগ রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী র‍্যালি উদযাপিত ৮ দফা দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে সিরাজগঞ্জে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রেস ব্রিফিং রায়গঞ্জে একই রাতে ৬ গরু চুরি দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি কবে থেকে, কতদিন পাবেন রাবিতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে চালু হচ্ছে কোডিং পদ্ধতি ব্রাজিলে নেইমার অধ্যায় শেষ, আনচেলত্তির স্পষ্ট বার্তা প্রতিদিন সকালে ফোন দেখার আগে যে ১০ কাজ করা উচিত ১৫ সেপ্টেম্বর আজকের ৫ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি

দখল-দূষণে মৃতপ্রায় মগড়া, ৪৮ কোটি টাকায় পুনর্জীবনের উদ্যোগ

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫ Time View

 

 

সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ 

 

 

একসময় নেত্রকোনার মগড়া নদীতে ছিল জোয়ার-ভাটার প্রবল স্রোত। পালতোলা নৌকা, স্টিমার ও লঞ্চ চলত নদীর বুক দিয়ে। বরিশাল, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসত বড় বড় মহাজনি নৌকা। ধান-পাটসহ নানা পণ্য বোঝাই করে ব্যবসায়ীরা ফিরে যেতেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। নদী ঘিরে ছিল মানুষের ব্যস্ততা ও নৌযানের কোলাহল।

ছয় দশক আগের সেই দৃশ্য এখন কেবল স্মৃতি। দখল ও দূষণে নেত্রকোনা শহরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া মগড়া নদী অনেকটাই নিশ্চল ও অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। দুই তীরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। বাসাবাড়ি, বাজার, কারখানা ও ক্লিনিকের বর্জ্যের পাশাপাশি পৌরসভার নর্দমার পানি সরাসরি নদীতে পড়ায় দূষণ বেড়েই চলেছে। কোথাও কোথাও পচা পানির দুর্গন্ধে নদীর তীরবর্তী পরিবেশও বিপর্যস্ত।

তবে দীর্ঘদিনের দাবির পর এবার মগড়া নদী পুনর্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদ্যোগে প্রায় ৪৮ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে নদী পুনঃখনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় মগড়া নদীর প্রায় ৪১ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এছাড়া নেত্রকোনা শহরের অংশে নদীর দুই পাড়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার হাঁটার পথ নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, মগড়া নদীর দৈর্ঘ্য ১৫৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১১৬ কিলোমিটার পড়েছে নেত্রকোনা জেলায়। নদীটি ময়মনসিংহের ফুলপুরের ধলাই নদের দক্ষিণমুখী প্রবাহ থেকে উৎপত্তি হয়ে নেত্রকোনা শহরের ভেতর দিয়ে আটপাড়া ও মদন উপজেলা অতিক্রম করে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় ধনু নদে গিয়ে মিশেছে। নদীর গড় প্রস্থ প্রায় ৩৮ মিটার। শহরের অংশে নদীটি নেত্রকোনাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে।

নদীর পুরোনো দিনের স্মৃতি এখনও মনে রেখেছেন শহরের মোক্তারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও ছড়াকার শ্যামলেন্দু পাল (৭৮)। তাঁর ভাষ্য, ১৯৬৫ সালে মোক্তারপাড়া এলাকায় প্রথম পাকা সেতু নির্মাণের পর বড় নৌযানের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ছোট ও মাঝারি নৌকা চললেও প্রায় নয় বছর আগে সেতুটি পুনর্নির্মাণের পর নৌপথটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় নদীর দুই পাড়ে দখলের চিহ্ন রয়েছে। আনন্দবাজার থেকে পাটপট্টি পর্যন্ত সাতপাই, নাগড়া, তেরিবাজার, ছোটবাজার, মোক্তারপাড়া, কাটলি ও পাটপট্টি এলাকায় নদীর জায়গা দখল করে বসতবাড়ি, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও পাউবোর হিসাব অনুযায়ী, সিএস খতিয়ান অনুসারে নদীর দুই তীরে অন্তত ৩৮১টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। তবে বিআরএস অনুযায়ী এর সংখ্যা ৪৯টি। এসব দখলকে কেন্দ্র করে ১০৪টি উচ্ছেদ মোকদ্দমা ও ২০টি দেওয়ানি মামলা হয়েছে।

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দ্রুত অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান ও পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুনমুন জাহান লিজা।

দখলের পাশাপাশি নদীটির অন্যতম বড় সংকট দূষণ। সাতপাই চক্ষু হাসপাতাল মোড়, কালীবাড়ি, পাটপট্টি, কাটলি, নাগড়া, থানা মোড় ও ঘুষের বাজার এলাকায় নদীর তীরে জমে আছে নানা ধরনের বর্জ্য। কাঁচা শাকসবজির উচ্ছিষ্ট, কারখানা ও ক্লিনিকের বর্জ্য, গৃহস্থালির আবর্জনাসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। পৌরসভার ১৩টি নর্দমার পানি নদীতে পড়ছে। কিছু বাড়ির পয়োনিষ্কাশনের সংযোগও নদীর সঙ্গে যুক্ত থাকায় মলমূত্র নদীতে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পাউবোর নেত্রকোনা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মগড়া নদী পুনঃখননের মাধ্যমে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। এতে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি কৃষিজমি ও ফসল রক্ষায়ও নদীটি ভূমিকা রাখবে। চলতি বছরের শুষ্ক মৌসুমে খননকাজ শুরু হবে। সাতটি প্যাকেজে সাতটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বাস্তবায়ন করবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়টি জেলা প্রশাসন দেখছে।

নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হক বলেন, মগড়া নদী দখলমুক্ত ও সংস্কার করে এটিকে একটি নান্দনিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একসময় যে নদী ছিল নেত্রকোনার ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও জনজীবনের অন্যতম প্রধান অবলম্বন, সেই মগড়ার হারানো যৌবন ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়—এখন সেটিই দেখার বিষয়। নদী পুনঃখননের পাশাপাশি দখল উচ্ছেদ, বর্জ্য ফেলা বন্ধ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে মগড়া আবারও প্রাণ ফিরে পেতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com