
অনলাইন,বিনোদন ডেস্ক
শোবিজ অঙ্গনের তারকাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত নানা ঘটনা মাঝেমধ্যেই গড়াচ্ছে আদালত পর্যন্ত। সাম্প্রতিক সময়ে অভিনেত্রী তানজিন তিশার ‘শাড়িকাণ্ড’ ঘিরে আদালতে আত্মসমর্পণ ও জামিনের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তারকাদের আদালতের মুখোমুখি হওয়ার প্রবণতা নিয়ে সরব হয়েছেন অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। তার মতে, ছোটখাটো বিষয় কিংবা মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে শিল্পীদের আইনি জটিলতায় জড়ানো কোনোভাবেই শোবিজের সুস্থ পরিবেশের লক্ষণ নয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অসন্তোষের কথা জানান নুসরাত ফারিয়া। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সামান্য বিষয় নিয়ে কেন একজন শিল্পীকে আদালত পর্যন্ত যেতে হবে? তার দৃষ্টিতে, এ ধরনের ঘটনা শুধু বিব্রতকর নয়, দেশের বিনোদন অঙ্গনের ভঙ্গুর বাস্তবতাকেও সামনে নিয়ে আসে।
ফারিয়া মনে করেন, কোনো বিষয়ে মতের অমিল হলেই আইনের আশ্রয় নেওয়াকে অগ্রগতি হিসেবে দেখার সুযোগ। তিনি বলেন, ‘আমার খুব কষ্ট হয় যখন দেখি মানুষ এমনভাবে বাহবা দেয় যে, এটিই অগ্রগতির প্রতীক। মতপার্থক্য হলেই আদালতে যাওয়া কোনো প্রগতিশীল চিন্তাধারা নয়।’
নিজের পোস্টে অভিনেত্রী লেখেন, ছোটখাটো বিষয়েও অভিনেতা-অভিনেত্রীদের আদালতে টেনে আনার এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতা কেবল লজ্জাজনকই নয়, বরং আমাদের বিনোদন শিল্পের জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক। এটি প্রমাণ করে যে আমাদের শোবিজ জগত কতটা ভঙ্গুর, খামখেয়ালি এবং অগভীর হয়ে পড়েছে। মানুষ যখন এই সংস্কৃতিকে ‘অগ্রগতি’ হিসেবে গণ্য করে তাকে উৎসাহিত করে, তখন তা দেখে আমার খুব কষ্ট হয়। মতপার্থক্য হলেই আদালতে যাওয়া কোনো প্রগতিশীল মানসিকতা নয়; বরং এটি সম্পূর্ণ পশ্চাৎপদ একটি আচরণ। আমাদের প্রয়োজন পারস্পরিক বোঝাপড়া, আলোচনা ও পরিপক্বতা—জনসমক্ষে অপমান বা অপ্রয়োজনীয় আইনি লড়াই নয়।
তবে তারকার আদালতে যাওয়ার ঘটনা নুসরাত ফারিয়ার জীবনে একেবারে অপরিচিত নয়।
গত বছর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। ১৮ মে গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিনে মুক্তি পান তিনি। আকস্মিক ওই ঘটনা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বড় ধরনের ধাক্কা তৈরি করেছিল।