
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কৃষকরা। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাঠের পর মাঠ পাকা ধান নুয়ে পড়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। হাজার টাকা মজুরি ও তিন বেলা খাবারের প্রলোভন দিয়েও মিলছে না ধান কাটার শ্রমিক।
সরেজমিনে উপজেলার নওগাঁ, বারুহাস, তালম ও দেশীগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমির পাকা ধান বৃষ্টির পানিতে নুয়ে পড়ে আছে। কোথাও কোথাও ধান পানিতে ডুবে গিয়ে শিষে চারা গজানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দেশীগ্রাম ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষক আব্দুল মজিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বাপ-দাদার আমল থেইকা ধান চাষ করি, এমন বিপদে কখনও পড়ি নাই। ধান সব পানির মধ্যে শুইয়া আছে। ৫০০ টাকার কামলা এখন ১ হাজার টাকা দিয়াও পাইতেছি না। আরেকটা বৃষ্টি হইলে আমরা শেষ।”
শ্রমিক সর্দার সোলেমান আলী জানান, নুয়ে পড়া ধান কাটতে অনেক বেশি পরিশ্রম হয়। তিনি বলেন, “সোজা ধান হলে দিনে ১০ শতক কাটা যায়, কিন্তু নোয়ানো ধান ৪ শতকও কাটা যায় না। এত কষ্টের কাজ করতে অনেকে আগ্রহী না।”
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শর্মিষ্ঠা সেনগুপ্তা বলেন, “এবার উপজেলায় ২২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু অসময়ের বৃষ্টিতে প্রায় ৫০ শতাংশ জমির ধান নুয়ে পড়েছে। কৃষকদের দ্রুত হারভেস্টার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে উপজেলায় বিদ্যমান হারভেস্টারের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম।”
এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা স্বল্প ভাড়ায় পর্যাপ্ত হারভেস্টার সরবরাহ এবং নুয়ে পড়া ধানের জন্য বিশেষ সরকারি প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন।