
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দুটি কলেজের পাসের হার শূন্য। প্রতিষ্ঠান দুটির মোট সাতজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েও একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এর মধ্যে একটি কলেজ থেকে মাত্র একজন এবং অন্যটি থেকে ছয়জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। অথচ কলেজ দুটিতে কাগজে-কলমে শিক্ষক রয়েছেন মোট ১০ জন।
কলেজ দুটি হলো চরজিথর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ এবং কোনাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ফলাফলের তালিকায় প্রতিষ্ঠান দুটির পাসের হার শূন্য শতাংশ দেখানো হয়েছে।
চরজিথর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. সেলিম জানান, কাগজে-কলমে কলেজটিতে ১০ জন শিক্ষক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে সাতজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও তাঁদের কেউই কলেজে আসেন না। কলেজ শাখাটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা বেতন পান না। ফলে তাঁরা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় অংশ নিচ্ছেন না। দীর্ঘ ১০ বছর বিনা পারিশ্রমিকে তাঁরা পাঠদান করেছেন। বর্তমানে কলেজ শাখাটি কার্যত শিক্ষকশূন্য।
তিনি আরও জানান, বারবার নোটিশ দিয়েও শিক্ষকদের কলেজে ফেরানো সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় কলেজের গভর্নিং বডির সঙ্গে আলোচনা করে কলেজ শাখার নিবন্ধন বাতিলের জন্য আবেদন করবেন। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একমাত্র শিক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছে।
অন্যদিকে, কোনাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার ছয়জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের কেউই পাস করতে পারেননি। কলেজটির অধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফ বলেন, এ বছর প্রথমবারের মতো কলেজটি নিবন্ধন পেয়েছে। কলেজ শাখায় তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। পাশাপাশি স্কুল শাখার দুজন শিক্ষক অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কলেজে ক্লাস নিয়েছেন। প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ছয়জনের কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি। শুরুতে কিছুটা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। আগামীতে আরও ভালোভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ভালো ফল অর্জনের আশা করছেন তাঁরা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, তিনি চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। কলেজ দুটি সম্পর্কে তাঁর বিস্তারিত জানা নেই। তবে প্রতিষ্ঠান দুটির সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঈশ্বরগঞ্জের নয়টি কলেজ ও উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার ঈশ্বরগঞ্জ রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে ৮২ দশমিক ৫০ শতাংশ। এরপর ঈশ্বরগঞ্জ আইডিয়াল কলেজে ৬০ দশমিক ৭১, ঈশ্বরগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজে ৫৬ দশমিক ৯৯, উচাখিলা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৫২ দশমিক ১৩, ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ৫১ দশমিক ৯৯, আঠারবাড়ী ডিগ্রি কলেজে ৩৩ দশমিক ৯৮ এবং সোহাগী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। অন্যদিকে, চরজিথর ও কোনাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের পাসের হার শূন্য।
এ ছাড়া উপজেলার ছয়টি মাদরাসার ফলাফলে দেখা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ ডিএস কামিল মাদরাসায় পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ, পিতাম্বরপাড়া হোসাইনিয়া কামিল মাদরাসায় ৫২ দশমিক ৫০, বৈরাটি আলিম মাদরাসায় ৫০, ধনিয়াকান্দি হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসায় ৪৪ দশমিক ৬২, উচাখিলা কেরামতিয়া আলিম মাদরাসায় ৪১ দশমিক ৬৭ এবং পানান ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ।