সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আবাসন প্রকল্পে বাস করা ৬ পরিবারকে রাতের অন্ধকারে বের করে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উচ্ছেদ হওয়া গৃহহীন ছয় পরিবার নারী-শিশুদের নিয়ে আবাসন প্রকল্পের বারান্দায় মানবেতর জীবনযাপন করেছেন।
মঙ্গলবার (২৭ আগষ্ট) রাতে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার স্বর্ণালী আক্তার বনবাড়িয়া আশ্রয়ন প্রকল্প-২ থেকে পরিবারগুলোকে বের করে তালা ঝুলিয়ে দেন।
ভুক্তভোগীরা হলেন, বনবাড়িয়া গ্রামের শহীদুল ইসলাম, রহমত আলী, তরিকুল ইসলাম, জহুরা খাতুন, নজরুল ইসলাম ও নয়ন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে বনবাড়িয়া আবাসন প্রকল্প-২ নির্মিত হয়। ৫০টি গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এই আবাসন প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ পেয়েও বেশ কিছু পরিবার সেখানে বসবাস না করায় সেগুলো পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পরিত্যক্ত ওই ঘরগুলোতে আশ্রয় নেয় ভুমিহীন পরিবারগুলো। তারা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসলেও এতদিন কেউ বাঁধা দেয়নি।
সম্প্রতি অজ্ঞাতনামা কোন ব্যক্তি তাদের উচ্ছেদের ব্যাপারে ইউএনও বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের তদন্ত চলছিল। এ অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করেই সার্ভেয়ার এসে ৬টি পরিবারকে ঘর থেকে উচ্ছেদ করে তালা ঝুলিয়ে দেন।
ভুক্তভোগীরা বলেন, এসব ঘরের মালিক প্রায় ১০-১২ বছর আগে নিজেরাই ঘর ছেড়ে চলে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঘরগুলো পরিত্যক্ত ছিল। আমরা মেরামত করে বসবাস করছি। এখন আমাদের ঘর থেকে বের করে দেওয়া হলো, এখন আমরা কোথায় আশ্রয় পাবো। যাওয়ার কোন জায়গা নেই-বাধ্য হয়ে বারান্দাতেই কষ্ট করে থাকতে হচ্ছে।
বনবাড়িয়া আবাসন প্রকল্প-২-এর সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, প্রকল্প-১-এর সাবেক সভাপতি সাইদ পরী, তাঁর ছেলে মোক্তার প্রকল্প-২-এর একটি ঘর চেয়েছিলেন। ঘর না দেওয়ায় তারা ইউএনও বরাবর মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। আর অভিযোগের তদন্ত চলছিল। এ অবস্থায় রাতে এসে ওই পরিবারগুলোকে আশ্রয়হীন করা হলো।
উল্লাপাড়া ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার স্বর্ণালী আক্তার ঘরগুলো তালাবন্ধ করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ওনাদের নামে দলিল নেই, বিনা অনুমতিতে রয়েছে। ইউএনও স্যারের মৌখিক নির্দেশনা অনুযায়ী সরেজমিনে গিয়ে ঘরগুলো আমাদের তত্ববধানে নিয়েছি।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার রায়হানুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে প্রশাসনিক একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পরবর্তী সিন্ধান্ত কি হয় সেটা পরবর্তীতে জানাবো।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আপনি আমাকে জানিয়েছেন, ইউএনওর সঙ্গে আমি কথা বলবো। তিনি আরও বলেন, সকল আশ্রয়ন প্রকল্প-গুচ্ছগ্রামে মাদক ব্যবসা, সেবন হচ্ছে। জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা যারা প্রকল্পগুলো ভিজিট করেন-কারা দীর্ঘ সময় ধরে আসেন না, কারা ভাড়া দিচ্ছেন এগুলো নিয়ে লিখিত প্রতিবেদন আছে আমাদের কাছে। সেগুলো নিয়ে মিটিং হয়, সিদ্ধান্ত হয়। অলরেডি সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোন আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর যদি ফাকা থাকে সেগুলো যাকে দেওয়া হয়েছিল, তার নাম বাতিল করে নতুন কাউকে বরাদ্দ দেওয়া হবে।







