
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ক্ষিরতলা গ্রামের কৃতী শিক্ষার্থী নুসাইবা হক এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন এ প্লাস) পাওয়ার পাশাপাশি ১ হাজার ২৫০ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ১৮৮ নম্বর পেয়ে তাড়াশ উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেছে সে।
নুসাইবা তাড়াশ উপজেলার বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর তার কৃতিত্বের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সহপাঠী, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি নুসাইবার ছিল গভীর আগ্রহ। নিয়মিত পড়াশোনা, অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে ভালো ফলাফল করে এসেছে সে। এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময়ও নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী নিয়মিত পড়াশোনা করেছে নুসাইবা।
১ হাজার ১৮৮ নম্বর পেয়ে তাড়াশ উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনের বিষয়টিকে তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, মেধা ও অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে দেখছে পরিবার। একই সঙ্গে তার এই সাফল্যের পেছনে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা, উৎসাহ ও দিকনির্দেশনার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছে নুসাইবার পরিবার।
নুসাইবা হক দৈনিক কালবেলার রায়গঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক নুরুল হক নয়ন ও শিক্ষিকা জোবাইদা পারভীনের মেয়ে। মেয়ের এমন অসাধারণ ফলাফলে আনন্দিত ও গর্বিত তার বাবা-মা।
নুসাইবার বাবা সাংবাদিক নুরুল হক নয়ন ও মা শিক্ষিকা জোবাইদা পারভীন বলেন, “মেয়ের এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। ছোটবেলা থেকেই সে পড়াশোনার প্রতি যত্নশীল। নিজের লক্ষ্য ঠিক রেখে নিয়মিত পড়াশোনা ও কঠোর পরিশ্রম করাই তার সাফল্যের অন্যতম কারণ।”
বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম বলেন, “নুসাইবা অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী। উপজেলার তথ্য অনুযায়ী সে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। তার এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে নুসাইবা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন আদর্শ, সৎ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
নুসাইবার কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সহপাঠী, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে নুসাইবা হক জানায়, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন ভালো মানুষ হতে চায় সে। নিজের মেধা, সততা ও পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছে এই কৃতী শিক্ষার্থী।
নুসাইবার এই অর্জন শুধু তার পরিবারকেই গর্বিত করেনি, তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিজ এলাকার জন্যও বয়ে এনেছে সম্মান। বিশেষ করে সাংবাদিক বাবা ও শিক্ষিকা মায়ের সন্তান হিসেবে শিক্ষাজীবনে এমন সাফল্য অর্জন করায় পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে আনন্দ।
নুসাইবার সাফল্য প্রমাণ করে, নিয়মিত পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস থাকলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। তার এই অর্জন এলাকার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।