
দৃশ্যপট ডেস্ক রিপোর্ট
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাসরত আদিবাসী নারীরা নীরবে বয়ে চলেছেন পরিবার ও জীবিকার কঠিন দায়িত্ব। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা সংসার সামলানোর পাশাপাশি কৃষিকাজ, দিনমজুরি ও বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে পরিবারের প্রধান ভরসায় পরিণত হয়েছেন।
উপজেলার সোনাখাড়া, ধুবিল ও ধামাইনগর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রায়গঞ্জ উপজেলায় মোট ৩০৪টি গ্রামের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৮৮ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন, যা উপজেলার মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ দশমিক ৬১ শতাংশ। এখানে মাহাতো, ওঁরাও, সাঁওতাল, মুড়ারি, রবিদাস, কনকদাস, সিং, তেলি, তুড়ি, বসাইকসহ প্রায় ১৪ থেকে ১৫টি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস রয়েছে।
জীবিকার তাগিদে এসব জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ, দিনমজুরি, গৃহস্থালি শ্রম ও অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত। তবে পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আদিবাসী নারীদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। ঘরের কাজ, সন্তান লালন-পালন ও রান্নাবান্নার পাশাপাশি তারা মাঠে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন, ফসল উৎপাদন ও সংগ্রহে অংশ নেন এবং বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে সংসারের ব্যয় নির্বাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আদিবাসী নারীরা কঠোর পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে পরিবারকে টিকিয়ে রাখছেন। তবে তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হক বলেন, “আদিবাসী জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বিশেষ করে নারীরা ঘর-সংসার সামলানোর পাশাপাশি কৃষিকাজ ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ এবং নারীদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে।”
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে। পাশাপাশি তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আদিবাসী নারীদের জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ সময়ের দাবি।
প্রতিকূলতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে নেওয়া রায়গঞ্জের আদিবাসী নারীদের এই নীরব জীবনসংগ্রাম আত্মত্যাগ, অধ্যবসায় এবং শিকড়ের প্রতি গভীর ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ