1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৬ অপরাহ্ন

যমুনা নদীর বাঁধে ফের ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১৩ Time View

 

 

ন্যাশনাল ডেস্ক 

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় নির্মিত শহড়াবাড়ি এলাকায় স্পারে (বাঁধ) ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। যমুনা যেন আবারও তার চিরচেনা রূপে ফিরে এসেছে।

 

 

 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি স্পারের প্রায় ৬৫ মিটার অংশ বিলীন হয়েছে।

 

 

 

এর আগে গত ১২ জুলাই এই বাঁধের অগ্রভাগের ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়। এবার নদী ভাঙন ধেয়ে আসছে বন্যানিয়ন্ত্রণ জনবসতির দিকে। বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় যমুনা পাড়ের পরিবারগুলো ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে তোলা বসতভিটা, স্মৃতি আর স্বপ্ন রেখে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে পা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত চার দিন ধরে যমুনা নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘন্টার যমুনা নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমতে থাকায় যমুনা নদীতে প্রবল স্রোত বইছে। এতে ঘূর্ণেবর্তের সৃষ্টি হয়ে বাঁধে আঘাত হানায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েকদিনের টানা স্রোত ও নদীর তীব্র ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের হাজারো মানুষের।

 

 

 

গত দুই মাস ধরে প্রতিদিনই নদীর পাড় ধসে পড়ার শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভাঙনের সঙ্গে সঙ্গে কেউ ঘরের টিন খুলছেন, কেউ বাঁশ-কাঠ নামাচ্ছেন, আবার কেউ ট্রলি কিংবা ভ্যানে করে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। বৃদ্ধদের চোখে জমে উঠছে অশ্রু, আর পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষগুলো ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় নির্বাক হয়ে পড়ছেন।

 

 

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছরই যমুনার ভাঙনে সর্বস্ব হারাতে হয় তাদের। নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কার্যকর উদ্যোগ খুব একটা দেখা যায় না। ফলে বর্ষা এলেই নতুন করে শুরু হয় আতঙ্ক, আর নদী কেড়ে নেয় মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও জীবিকার শেষ সম্বল। নদীপাড়ের অনেক পরিবারের এখন একমাত্র চিন্তা- মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ঠাঁই। কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন, কেউ বাঁধের ওপর কিংবা খোলা জায়গায় অস্থায়ীভাবে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। যে উঠোনে শিশুদের হাসি-কান্না, যে আঙিনায় ছিল জীবনের অসংখ্য স্মৃতি, সেটিই এখন নদীর গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়।

 

 

এদিকে ভাঙন যদি একই গতিতে অব্যাহত থাকে, তবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে এবং নতুন করে দুর্ভোগে পড়তে পারেন হাজারো মানুষ। কারণ একটি ঘর ভেঙে গেলে শুধু ইট, কাঠ কিংবা টিন হারায় না, হারিয়ে যায় একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা আর বেঁচে থাকার অবলম্বন। যমুনার এই অব্যাহত ভাঙন যেন আর কোনো পরিবারকে নিঃস্ব না করে এটাই এখন নদীপাড়ের মানুষের সবচেয়ে বড় আকুতি।

 

 

বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, শহড়াবাড়ি স্পারের (বাঁধ) ক্ষতিগ্রস্থ অংশে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে দ্রুত ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com