
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লাঙ্গলমোড়া মণ্ডলপাড়া এলাকার ঠারকেন বিলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় প্রায় ২০০ বিঘা আবাদি জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর পানি জমে থাকায় ধান, পাটসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের আবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শতাধিক কৃষক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কৃষিজমি হারিয়ে অনেকেই ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন, আবার কেউ জীবিকার তাগিদে কৃষিকাজ ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠারকেন বিলের পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি দীর্ঘ সময় ধরে নেমে যায় না। ফলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি বছরের অধিকাংশ সময় পানির নিচে থাকায় ফসল উৎপাদন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। একসময় যেখানে সোনালি ধান আর সবুজ পাটের সমারোহ ছিল, সেখানে এখন দেখা যায় কেবল জলাবদ্ধতা আর কৃষকদের হতাশার দীর্ঘশ্বাস।
স্থানীয় ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা বছরের পর বছর ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। খাল পুনঃসংস্কার ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে এই কৃষিজমিগুলো আবারও উৎপাদনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভাষ্য, এই জমিই ছিল তাদের পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। কিন্তু বছরের পর বছর চাষাবাদ করতে না পারায় তারা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কৃষিকাজে ভবিষ্যৎ না দেখে অনেক তরুণ কৃষক বিকল্প পেশায় ঝুঁকছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বাবু বলেন, দ্রুত খাল পুনঃখনন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে এই বিশাল কৃষিজমি আবারও আবাদযোগ্য হবে। এতে কৃষকদের মুখে হাসি ফিরবে এবং এলাকার কৃষিনির্ভর অর্থনীতিও পুনরুজ্জীবিত হবে।
ঘুড়কা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুর নবী সরকার বলেন, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রায় ১০০ কৃষক এর ভুক্তভোগী। জরুরি ভিত্তিতে সরকারি বরাদ্দ দিয়ে পাইপলাইন অথবা ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করা হলে প্রায় ২০০ বিঘা জমির জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে ঘুড়কা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মনসুর আলী বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “ঘুড়কা ইউনিয়নের লাঙ্গলমোড়া এলাকার ঠারকেন বিলের জলাবদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে। পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধানে সম্ভাব্য উদ্যোগগুলোও পর্যালোচনা করা হবে।”
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। তাদের একটাই আবেদন—”জমি বাঁচান, কৃষক বাঁচান। ঠারকেন বিলের পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করে শতাধিক কৃষক পরিবারের জীবন-জীবিকা রক্ষা করুন।”
স্থানীয়দের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে শুধু ২০০ বিঘা জমিই নয়, কৃষকদের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নও আবার সবুজ হয়ে উঠবে।