
খ,ম,জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর,(ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়নের মহিষবেড় গ্রামে একটি বাড়ির সিঁড়ি থেকে অ/জ্ঞাত পরিচয়ে (প্রায় ২/৩ দিন বয়সী) উদ্ধার হওয়া এক নবজাতক ছেলেশিশুকে দত্তক দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন।
বর্তমানে শিশুটির প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরঞ্জাম, কাপড়, তোয়ালে, বেবি ডায়াপার, ওয়েট টিস্যু ও দুধ ইতোমধ্যে কিনে দেওয়া হয়েছে। শিশুটিকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও নার্সদের তত্ত্বাবধানে রেখে তার সার্বিক পরিচর্যা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যারা এই নবজাতক ছেলেশিশুটিকে দত্তক নিতে আগ্রহী, তাদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে ।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত অফিস চলাকালীন সময়ে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরে আবেদন করার জন্য।
শুক্রবার ১৭ জুলাই বোর্ডের মাধ্যমে আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই করা হবে। পরবর্তীতে নির্ধারিত যেকোনো দিন শিশুটিকে হস্তান্তর করা হবে। আরও তথ্যের প্রয়োজন হলে সরাসরি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিধিমালা অনুযায়ী, আবেদন গ্রহণের পর শিশুটির জন্য উপযুক্ত দম্পতি নির্বাচন করতে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিশু কল্যাণ বোর্ড ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে। তবে বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার সম্পূর্ণ সুস্থতার পরই দত্তক প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের মহিষবেড় গ্রামের একটি বাড়ির সিঁড়ি থেকে অ/জ্ঞাত পরিচয়ে (প্রায় ২/৩ দিন বয়সী) এক নবজাতক ছেলেশিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্তমানে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রাখা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ভোরের কোনো এক সময় কে বা কারা উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়নের মহিষবেড় গ্রামের ফাইজুল ইসলামের মাদারী বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ওঠার সিঁড়িতে নবজাতক ছেলেশিশুটিকে রেখে চলে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে পরিবারের সদস্যরা শিশুর কান্নার শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে তাকে দেখতে পান। পরে তারা শিশুটিকে কোলে নিয়ে প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেন। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা শিশুটিকে দেখতে ভিড় করেন। অনেকেই শিশুটিকে লালন-পালনের আগ্রহ প্রকাশ করলে সেখানে কিছুটা হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে নাসিরনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসাধীন রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নাসিরনগরের কোনো হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন অথবা বাসায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হতে পারে। সম্ভবত কুন্ডা ইউনিয়ন বা আশপাশের গ্রাম কিংবা এলাকার কোনো দম্পতি অথবা আত্মীয়স্বজনের ঘরেই এই ছেলেশিশুটির জন্ম হয়েছে। কোনো না কোনো কারণে জন্মদাতা মা-বাবা কিংবা আপনজনেরা তাকে অচেনা একটি বাড়ির সিঁড়িতে রেখে গেছেন।
বর্তমানে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা বিভাগ, নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নাসিরনগর থানার তত্ত্বাবধানে শিশুটির চিকিৎসা, পরিচর্যা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।