
শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে মালিহা খাতুন (২৪) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে পরিবারের সদস্যরা নিজ ঘরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
নিহত মালিহা খাতুন শ্রীপুর গ্রামের পুটি লস্করের ছেলে জহুরুল ইসলামের স্ত্রী। জহুরুল ইসলাম পেশায় একজন দন্ত চিকিৎসক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মালিহা ও জহুরুলের বিয়ে পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। দুই পরিবার নিকট আত্মীয় হওয়ায় পারস্পরিক সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সাংসারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রামজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের একাংশ স্বামী জহুরুল ইসলামের আচরণ ও দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে নানা অভিযোগ তুললেও, এসব অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে, দুপুর পর্যন্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে মতবিরোধ চলতে থাকে। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ আলোচনায় বসে। পরিবারের সদস্যরা কোনো অভিযোগ না করার সিদ্ধান্ত নিলে এবং লিখিত আবেদন দিলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) হোসেন আলী বলেন, ‘সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী অপমৃত্যু মামলার তদন্ত অব্যাহত থাকবে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তও পর্যালোচনা করা হবে