
দৃশ্যপট ডেস্ক রিপোর্ট
‘সম্প্রীতির ঐকতানে গাহি সাম্যের গান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় জেলা পুলিশের উদ্যোগে সকল ধর্মাবলম্বীর অংশগ্রহণে সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা থানা মাঠ প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকল ধর্মাবলম্বীর অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য সম্প্রীতি র্যালি সলঙ্গা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আছলাম আলীর সভাপতিত্বে এবং রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সান্তু, বিপিএম (বার)।
পুলিশ সুপার বলেন, “বাংলাদেশ সকল ধর্মের মানুষের দেশ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করে সবাইকে দেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” তিনি যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে পরিবার, সমাজ ও জনপ্রতিনিধিদের সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদক প্রতিরোধে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সলঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মতিয়ার রহমান সরকার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিফ সরকার, রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবিএম আব্দুস সাত্তার এবং সলঙ্গা থানা জামায়াতের আমির রাশেদুল ইসলাম শহীদ।
এ সময় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ওলামা মাশায়েখ বিভাগের সলঙ্গা থানা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা সারোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সলঙ্গা থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক গজেন্দ্র নাথ মণ্ডল, সলঙ্গা থানা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় কুমার দাম এবং সলঙ্গা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম. দুলাল উদ্দিন আহমেদ।
এ ছাড়া সমাবেশে সলঙ্গা থানা যুবদলের আহ্বায়ক রাশেদুল হাসান পাপন, সদস্য সচিব শাহিন রেজাসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সুধীজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সমাবেশ শেষে আয়োজকরা বলেন, সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।