1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
যে ৬ কারণে এবারই বিশ্বকাপ জিততে পারে ব্রাজিল চুয়াডাঙ্গায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তজেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার ভূরুঙ্গামারীতে মরিচ ক্ষেতে ১০ ফুট উচ্চতার গাঁজা গাছ জব্দ কর্তব্যনিষ্ঠা ও সাহসিকতার স্বীকৃতি: ১৫ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ পুরস্কার সলঙ্গায় মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে পুলিশের সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক মনোজিৎ সরকার জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ, বিজিবির কড়া অবস্থানে পিছু হটলো বিএসএফ আমতলীতে ওয়ার্ল্ড ভিশনের উদ্যোগে আট হাজার ফলজ গাছের চারা বিতরণ  জাহাঙ্গীর হোসেনের স্মরণসভায় টুকু আওয়ামী শাসনে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীরা সীতাকুণ্ডে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাভার্ডভ্যানের পেছনে প্রাইভেটকার, আহত ৩

প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে চায় মেঘলা

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ৮৭ Time View

 

 

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

 

 

এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়েই কলেজে যাওয়ার চেষ্টা—কিন্তু দারিদ্র্য যেন বারবার টেনে ধরছে তার স্বপ্নকে। তবুও থেমে নেই মেঘলা। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর মেধা নিয়েই এগিয়ে যেতে চায় জীবনের কঠিন পথ পেরিয়ে।

 

 

 

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার বাকুয়া গ্রামের বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী মেঘলা শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এগিয়ে চলা এক অনন্য উদাহরণ। জন্ম থেকেই একটি পা ছোট এবং দুর্বল হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। তবুও থেমে থাকেননি তিনি।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হামিদা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৮৩ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে হামিদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে একই বিভাগে পড়াশোনা করছেন। তবে প্রতিভাবান এই শিক্ষার্থীর সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দারিদ্র্য। বাবা একজন দিনমজুর, সংসারের খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। ফলে প্রতিদিন কলেজে যাওয়া সম্ভব হয় না মেঘলার। মাসে মাত্র ৩ থেকে ৪ দিন কলেজে যেতে পারেন তিনি। বাকি সময়টা বাড়িতেই পড়াশোনা চালিয়ে যান।

 

 

কলেজ পড়ুয়া মেঘলা খাতুন বলেন, আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। কিন্তু আমার বাবা বই কিনে দিতে পারে না, প্রতিদিন যাতায়াতের ভাড়াও জোগাতে পারে না। কলেজে ফ্রি পড়ার সুযোগ পেয়েছি, স্যাররাও সাহায্য করেন। যদি একটা তিন চাকার স্কুটি পেতাম, তাহলে নিয়মিত কলেজে যেতে পারতাম।

 

 

 

 

 

মেয়ের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা আরজিনা খাতুন। তিনি বলেন, মেয়ের জন্য কিছু করতে না পারার কষ্টটা খুবই বেদনাদায়ক। সবাই যদি একটু সাহায্য করেন, তাহলে আমার মেয়ে তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।

 

 

 

দিনমজুর বাবা আমির হোসেন বলেন, প্রতিদিন যা আয় করি, তা দিয়ে সংসারই চলে না। মেয়ের লেখাপড়া আর যাতায়াতের খরচ বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব না। যদি কেউ একটা স্কুটির ব্যবস্থা করে দিতেন, তাহলে মেয়েটা নিয়মিত কলেজে যেতে পারত।

 

 

স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, মেঘলা ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী। প্রতিকূলতার মধ্যেও তার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা মনে করেন, একটু সহায়তা পেলে মেঘলা ভবিষ্যতে বড় কিছু করতে পারবে।

 

 

সেই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষ এগিয়ে এলে মেঘলার মতো একজন সংগ্রামী শিক্ষার্থীর জীবন বদলে যেতে পারে বলে সবার দাবি।

 

 

কলেজের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, মেঘলা অত্যন্ত মেধাবী। আমরা তাকে যতটা সম্ভব সহায়তা করছি। কিন্তু তার নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হলে একটি চলাচলের ব্যবস্থা জরুরি।

 

 

দ্য বার্ড সেফটি হাউজের চেয়ারম্যান ও পরিবেশকর্মী মামুন বিশ্বাস একমত হয়ে বলেন, এটি শুধু একটি পরিবারের সমস্যা নয়, এটি আমাদের সমাজের দায়। সবাই মিলে পাশে দাঁড়ালে মেঘলার মতো আরও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ রক্ষা পাবে।

 

 

অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর সংগ্রামের প্রতীক মেঘলা এখন সমাজের সহানুভূতি আর সহায়তার অপেক্ষায়। একটি তিন চাকার স্কুটি হতে পারে তার শিক্ষাজীবনের টার্নিং পয়েন্ট—যা তাকে প্রতিদিন কলেজে পৌঁছে দেবে, আর এগিয়ে নেবে স্বপ্নের আরও কাছাকাছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com