
ন্যাশনাল ডেস্ক
ঈদুল আজহার প্রথম দিনেই ঢাকার সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে জমতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার চামড়া শিল্পনগরীতে প্রবেশ করেছে। তবে চামড়ার সরবরাহ বাড়লেও বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পেয়ে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল গড়াতেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকভর্তি কাঁচা চামড়া সাভারের শিল্পনগরীতে এসে পৌঁছাতে থাকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত চামড়া পরিবহন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কিংবা সংরক্ষণ কার্যক্রমে বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েনি। বিসিক, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চামড়া শিল্পনগরীর বিসিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাইয়ান জানান, দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ৩৪১টি ট্রাকে করে মোট ৭৯ হাজার ২১৮টি কাঁচা চামড়া শিল্পনগরীতে এসেছে। এরমধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ৭৮ হাজার ৫১৫টি এবং ছাগল-ভেড়ার চামড়া ৭০৩টি।
তিনি বলেন, চামড়া দ্রুত সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতের কাজ চলছে। আগামী দুই দিনে চামড়া প্রবেশের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।
শিল্পনগরীর প্রধান ফটকে দায়িত্বরত কর্মীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম চামড়াবাহী ট্রাকটি ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর একের পর এক ট্রাক আসতে থাকে। বেশিরভাগ চামড়াই ছিল রক্তমাখা কাঁচা অবস্থায়। ট্যানারি ও আড়তে নেওয়ার পর শ্রমিকরা দ্রুত তাতে লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণের কাজ শুরু করেন।
তবে চামড়া শিল্পনগরী সংলগ্ন আড়তগুলোতে গিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেন বিক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক কম দর হাঁকাচ্ছেন আড়তদাররা।
বলিয়ারপুর এলাকা থেকে ৩০ পিস চামড়া নিয়ে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী পরেশ বলেন, মাঠপর্যায় থেকে ৭০০ টাকা দরে চামড়া কিনেছি। এখন আড়তে মাত্র ৬০০ টাকা দাম বলছে। লাভ তো দূরের কথা, আড়তদারদের এই সিন্ডিকেটের কারণে আমাদের গাড়ি ভাড়াও উঠবে না।
গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার একটি মাদ্রাসার প্রতিনিধি জানান, আড়তে কম দাম বলায় তারা সরাসরি ট্যানারির ভেতরে চামড়া নিয়ে যাচ্ছেন, যাতে কিছুটা ভালো দাম পাওয়া যায়। তবে আড়ত মালিকরা বলছেন, চরম নগদ অর্থ সংকটের কারণেই বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
হেমায়েতপুর চামড়ার আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, ট্যানারিগুলোর কাছে আমাদের কোটি কোটি টাকা বকেয়া আটকে আছে। ব্যাংক ঋণের সুবিধাও তেমন পাওয়া যায় না। ফলে নগদ টাকার সংকটে অনেক সময় প্রত্যাশিত দামে চামড়া কেনা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে ট্যানারি মালিকদের মাঝেও এবার আগের মতো উৎসবমুখর পরিবেশ নেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দরপতন, এলডাব্লিউজি সনদের অভাব এবং রপ্তানিতে চীনের ওপর অতিনির্ভরতা এই ব্যবসাকে বড় ধরনের চাপে ফেলেছে।
আজমীর লেদারের মালিক মো. শহিদুল্লাহ বলেন, এবার ২০ হাজার পিস চামড়া কেনার লক্ষ্য রয়েছে। তবে এখনও কারখানায় আগের প্রায় ৫০ হাজার পিস চামড়া মজুত আছে। সব মিলিয়ে বাজার পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা চাপে রয়েছেন।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক ও সমতা লেদারের মালিক মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ বছর দেশজুড়ে প্রায় এক কোটি পিস কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। দিনের তুলনায় রাতেই বেশি বেচাকেনা হয়। তখন দ্রুত দর নির্ধারণ করতে গিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়। তবে সামগ্রিকভাবে এখন পর্যন্ত চামড়া সংগ্রহ পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক।
সূত্রঃ দৈনিক কালবেলা।