
দৃশ্যপট ডেস্ক:
বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে এখন লাউ চাষ যেন নতুন আশার আলো। একসময় শুধুমাত্র গৃহস্থালির রান্নাঘরের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এখন এটি কৃষকদের আয়ের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সবজি যেমন পরিবারে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করছে, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
স্থানীয় কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে লাউয়ের আবাদ গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রধান কারণ—কম খরচে বেশি ফলন, সহজ পরিচর্যা ও বাজারে স্থায়ী চাহিদা।
সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের সুজাপুর গ্রামের সফল কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, “আগে ধান-গম করতাম, লাভ কম হতো। এখন লাউ চাষ করে অল্প জমিতেই ভালো আয় হচ্ছে। একটি লাউ গাছে ১০ থেকে ১৫টি পর্যন্ত লাউ পাওয়া যায়, যা বিক্রি করে প্রতিদিনই নগদ টাকা আসে।” তিনি আরো বলেন, লাউয়ের পাশা পাশি, লাউয়ের শাক বিক্রয় করা যায়।
লাউ একটি বহুমুখী সবজি। এতে রয়েছে প্রচুর পানি, আঁশ, ভিটামিন ‘সি’, ক্যালসিয়াম ও লৌহ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, লাউ শরীরের তাপ কমায়, হজমে সহায়তা করে, লিভার সুস্থ রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। নিয়মিত লাউ খেলে শরীর থাকে হালকা ও কর্মক্ষম।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন,“বর্তমানে উচ্চফলনশীল জাতের লাউয়ের বীজ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সার ও কীটনাশক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হতে পারেন।”
বর্তমানে বিভিন্ন পাইকারি বাজারে লাউয়ের দাম পিস প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা। এক বিঘা জমিতে লাউ চাষ করে কৃষকরা গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ পাচ্ছেন।
কৃষিবিদদের পরামর্শ—সময়মতো সেচ দেওয়া, আগাছা দমন ও কীটনাশক ব্যবহারে সচেতন হলে লাউ চাষ আরও লাভজনক হতে পারে।
লাউ চাষ এখন শুধু খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্র নয়, বরং এটি গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের সহায়তা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে লাউ চাষ ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য: কৃষি বিষয়ক জানতে -” দৈনিক প্রতিদিনের দৃশ্যপট ” মাল্টিমিডিয়া সাপ্তাহিক আয়োজন কৃষি কথা,কৃষকের কথা দেখতে চোখ রাখুন। স্টাফ রিপোর্টার- রবিউল আউয়াল উপস্থাপনায়।