
নাটোর জেলা প্রতিনিধি:
রাস্তার দুর্ভোগে ভেঙে যাচ্ছে বিয়ের সম্বন্ধ। এছারা পানি বন্দি হয়ে আছে,শতাধিক পরিবারের প্রায় তিন শতাধিক মানুষ। নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পিপরুল ইউনিয়নের রায়সিংহপুর গ্রামের মানুষের জন্য বর্ষা মানেই পানির দুঃস্বপ্ন। সেই চলাচলের স্থানই তলিয়ে যায়,বর্ষার পানিতে।
মাত্র ৩শ মিটার রাস্তার কারণে শিক্ষাসেবা, চিকিৎসা ও কৃষি বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভেঙে যাচ্ছে বিয়ের সম্বন্ধ। পাত্র বা পাত্রীপক্ষ পানি ভেঙ্গে গ্রামে আসতে রাজি না হওয়ায় ভালো সম্বন্ধও নষ্ট হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে অভিযোগ করেও সমাধান না পেয়ে হতাশ গ্রামবাসী।
তাই গ্রামবাসী বরিবার(৩১ আগস্ট) দুপুরে এবার সেই ডুবন্ত পানি নেমেই রাস্তার দাবিতে করেছেন,মানববন্ধন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিএনপি নেতা মজিবর রহমান মধু,মালেক ব্যাপারী,সুকচান মন্ডল,রহিম মন্ডল,মজিবর ব্যাপারী,আলিম ব্যাপারী,আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন,ভোট এলে আসে আশ্বাস,অনেকে কথা দিয়েছে রাস্তা করে দিবে,কিন্তু কেউ কথা রাখেনি।
নলডাঙ্গা-শেরকোল সড়কের রায়সিংহপুর পূর্বপাড়া অবস্থা এতটাই করুণ,বর্ষা মৌসুমে-পানিতে একাকার হয়ে যায়। যানবাহন তো দূরের কথা,নৌকা ছাড়া চলাচল সম্ভব হয়না।
তারা আরও বলেন,ছেলের ভালো চাকরি থাকলেও কিংবা মেয়েরা গুণে গুণান্বিত হলেও বিয়ে হচ্ছে না,কারণ পাত্র বা পাত্রীপক্ষ রাজি হচ্ছে না,এই গ্রামে আসতে। এ কারণে বিয়ের আগেই ভেঙে যাচ্ছে সম্বন্ধ।
শুধু বিয়ে নয়,রাস্তার কারণে শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কোনো রোগী অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, রিকশা-ভ্যানও পৌঁছায় না গ্রামে। রোগীকে খাটিয়ায় করে বহন করতে হয়। বৃষ্টির দিনে দুর্ভোগ আরও চরমে ওঠে। মৃত্যু ঝুঁকি নিয়েই মানুষকে চলাচল করতে হয়।
শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া-আসা হয়ে উঠেছে দুঃস্বপ্নের মতো। সকালে স্কুলে রওনা হলেই পানিতে পড়ে গিয়ে ভিজে যায় বই-খাতা ও ইউনিফর্ম। এতে অনেকেই সময় মতো ক্লাসে পৌঁছাতে পারে না,পড়ালেখা ব্যাহত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা।
কৃষকরাও দাবি রাস্তা না থাকার কারণে সময় মতো ফসল বাজারজাত করতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বর্ষা মৌসুমে পানি মাড়িয়ে চলাচল করা আমাদের জন্য চরম কষ্টের। পানি সরে গেলেও রাস্তা কাদা হয়ে যায়। ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে যেতে কষ্ট হয়,অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে কোলে বা খাটিয়ায় করে নিতে হয়। রাস্তার বিষয়ে অনেকবার চেয়ারম্যান, মেম্বারদের কাছে অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। কথা দিয়ে কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। আজও আমাদের এলাকার বাস্তব কোনো উন্নয়ন হয়নি। এই রাস্তাটি হলে মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ হাসিবুল হাসান,আগামী বরান্দ আসলে আমরা রাস্তাটি করে দিবো।
আশা করছি,খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।